কৃষকের ধান দুর্বৃত্তদের ঘরে

  মঙ্গলবার | নভেম্বর ২৩, ২০২১ | ০৫:০৮ পিএম

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

কৃষক মোজাহারুল ইসলাম। চলতি মৌসুমে আবাদ করেছিলেন আমন ধানের। এ ফসল নিয়ে পরিবারের চাহিদা পুরণের স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি। এরই মধ্যে একদল দুর্বৃত্ত কেটে নিয়ে গেছে তার পাকা ধান। অনাকাঙ্খিত এ ঘটনার প্রতিকার না পেয়ে অবশেষে  মামলা করেছে বিজ্ঞ আদালতে।

সরেজমিনে মঙ্গলবার(২৩ নভেম্বর)বিকেলে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের ফরিদপুর মৌজায় দেখা যায় ধান কেটে নিয়ে যাওয়ার সেই জমির চিত্র। এসময় ক্ষতিগ্রস্ত মোজাহারুল ইসলাম জমির পাশে বসে দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ওই ইউনিয়নের উত্তর ফরিদপুর (পুর্বপাড়া) গ্রামের মৃত মজনু সরকারে ছেলে মোজাহারুল ইসলাম ফরিদপুর মৌজায় রোপা আমন ধান আবাদ করে। এরপর ক্ষেতের ধান পাকতে শুরু করলে গত ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল ৬ টার দিকে একই গ্রামের মৃত্যু আলা উদ্দিন শেখের ছেলে শাহানুর শেখ গংরা প্রভাব খাটিয়ে ২৬ শতক জমির পাকা ধান কাটতে থাকে। এসময় মোজাহারুল ইসলাম বাঁধা দিতে গেলে তাকে প্রাণ নাশের হুমকিসহ অশ্লিল ভাষায় গালমন্দ করে। এমন আক্রোমনের শিকার হওয়ায় জীবনের ভয়ে জমি থেকে সরে যায়। এ সুযোগে সম্পন্ন ধান কেটে নিয়ে যায় শাহানুর শেখ ও তার দলবল। এঘটনার পর আরও ৬০ শতক জমির ধান কেটেছে বলে অভিযোগে উঠে।

এ  ঘটনা অস্বীকার করে অভিযুক্ত শাহানুর শেখ বলেন, ওই জমিতে আমাদের অংশিদারিত্ব রয়েছে। ভূক্তভোগি মোজাহারুল ইসলাম জানান, ফরিদপুর মৌজার তফসিল বর্ণিত জমি ওয়ারিশ সূত্রে  মালিকানা হয়ে ভোগদখল করে আসছি।  এ মৌজার কয়েকটি দাগে ফসল উদপাদন করে আসার একপর্যায়ে অন্য প্রতিপক্ষরা অহেতুকভাবে দাবি করে। এ নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যাদের সঙ্গে জমির বিরোধ চলেছে তারা ধান কেটে নিয়ে যায়নি। কিন্তু শাহানুর শেখ তার দলবল নিয়ে আমাদের জমির ধান কেটে সাবার করে নিয়েছে।  এ বিষয়ে বিজ্ঞ আদালতে একটি মামলা দায়ে করা হয়। এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাদুল্লাপুর থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই)এমরান হোসেন জানান, ধান কাটার মামলাটি তদান্তাধীন রয়েছে।