দিন যায়, দিন ফিরে আসে : মারুফা আক্তার পপি

  জাগো ডেস্ক  মঙ্গলবার | জুন ২৯, ২০২১ | ১২:৪১ এএম

জীবন থেকে কেমন করে যেন নিজের অজান্তেই রাগ, অভিমান এমন শব্দগুলো হারিয়ে গেছে। বয়সের সাথে সাথে পাল্টে গেছে আচার আচরণ। আনন্দ, হাসি, কান্না কোন কিছুই এখন আর ছোট্টবেলার মতো গতি পায় না কিন্তু আজ মাদিবা আমাকে সেই ছোট্টবেলায় ফিরিয়ে নিয়ে গেলো---
বাসার মেইন ওয়ার্কিং হ্যান্ডস বাড়ি গিয়ে লকডাউনে আটকে গেছে। 'চন্ডিপাঠ থেকে জুতা সেলাই' না করলেও সকালের চা থেকে রাতের মশারী বাঁধা পর্যন্ত  কাজগুলো নিজদেরই সারতে হয়।
সত্যি বলতে কি মিছিলে আমার যতটা গতি ছিলো ঘরের কাজে আমি ততটা স্কিল নই, তাই মাঝে মধ্যে দুপুরের খাবার তৈরি করতে দেরি হয়ে যায়। আজও তাই হলো।
কচু শাক আমার ভীষণ প্রিয়, আজ দূপুরে সেই প্রিয় খাবার ইলিশ মাছের মাথা দিয়ে কচু শাক রান্না করছিলাম। 
মাদিবা বললো, মা খাবার দাও, মিস্ চলে আসবে। আমি শাকটা একটু মনোযোগ দিয়েই রাঁন্না করছি তাই বললাম, বাবা ৫ মিনিট, এখনই দিচ্ছি ! সামান্যই দেরি!!
রান্না শেষে ওকে খাওয়াচ্ছি,খাওয়ার মাঝেই মিস্ (টিউটর) চলে এলেন। বললাম শেষ করো, মিস একটু বসুক---
কিছুতেই কিছু হলো না, মেয়ে ভাত না খেয়ে রাগ করে উঠে গেলো! 
মনে পড়ছে, আমিও ছোটবেলায় এমনি করতাম! 
 
আমার জীবনের দিনলিপিতে রাগ আর অভিমান নামক যে শব্দটা আছে এর পূর্ণাঙ্গ শব্দার্থ হলো- 'আম্মা'। 
মাকে আমরা আম্মা ডাকতাম। আমরা ছয় ভাই বোনের মধ্যে আমি ছিলাম সবার ছোট এবং একমাত্র মেয়ে। সম্পদের টানাপোড়ন থাকলেও সাংসারিক ঐশ্বর্যে টইটুম্বুর ছিলো আমাদের মধ্যবিত্ত গ্রামীণ পরিবারটা। সেই পরিবারে সবচেয়ে ছোট সদস্য হলেও বড় মাছটা, মুরগীর রানটা বেশির ভাগ সময় আমার জন্যই বরাদ্দ ছিলো। 
আর আমি ?
আম্মা খাবার জন্য সামান্য পীড়াপীড়ি করলে, কখনো এক চামচ ভাত বেশি দিলে আম্মার ওপর ভীষণ মেজাজ দেখাতাম! আর কোন কারণে রাগ উঠলে তা প্রকাশ করার একমাত্র মাধ্যম ছিলো- রাগ করে ভাত না খাওয়া ---

* কিছুই শেষ হয় না, সময়ের বিবর্তনে ফিরে ফিরে আসে- স্মৃতি অম্লান- মা অমর *

ফেইসবুক থেকে সংগৃহীত।