ক্ষুব্ধ তোফায়েল আহমেদের বক্তব্য ভাইরাল

  জাগো ডেস্ক  সোমবার | জুন ২৮, ২০২১ | ০৬:০৭ পিএম

উনসত্তরের গনঅভ্যুত্থানের মহানায়ক তোফায়েল আহমেদের  একটি বক্তব্য ভাইরাল হয়েছে। আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগসহ দলীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন, তিনি সকলের মনের কথাটাই অকপটে বলেছেন।

ভাইরাল হওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, 'ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স অনুযায়ী সাংসদেরা সচিবদের ওপরে। এটা খেয়াল রাখতে হবে।'

‘আমরা যারা এই জাতীয় সংসদের সদস্য, এমন একজনও নেই যিনি এই করোনাকালে নিজস্ব অর্থায়নে বা যেভাবেই হোক গরিব–দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়াননি। সবাই দাঁড়িয়েছে। আমি আমার নিজের এলাকায় ৪০ হাজার মানুষকে রিলিফ দিয়েছি। এখন আমাদের মাফ করবেন, কথা বলাটা কতটা যুক্তিসংগত জানি না। এখন আমাদের জেলায় জেলায় দেওয়া হয়েছে প্রশাসনিক কর্মকর্তা। মানুষ মনে করে আমরা যা দিই, এটা প্রশাসনিক কর্মকর্তারাই দেয়। অথচ প্রশাসনিক যারা কর্মকর্তা, তারা কিন্তু যায়ইনি। যাঁকে দেওয়া হয়েছে, তিনি এখন পর্যন্ত যাননি। এটা কিন্তু ঠিক না। একটা রাজনৈতিক সরকার এবং রাজনীতিবিদদের যে কর্তৃত্ব কাজ, সেটা কিন্তু ম্লান হয়ে যায়।’

তোফায়েল আহমেদ বলেন, পরিকল্পনামন্ত্রী বলেছেন, ফেরাউনের সময়ও আমলা ছিল। এসব কথাবার্তা মানুষ পছন্দ করে না। তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর জিয়াউর রহমান বলেছিলেন, তিনি রাজনীতিবিদদের জন্য রাজনীতি করা কঠিন করে দেবেন। তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজটা করেছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘যাঁরা রাজনীতিবিদ, যাঁরা নির্বাচিত প্রতিনিধি, তাঁদের জন্য নির্ধারিত স্থান যে আছে, সেখানে তাঁদের থাকা উচিত। কারণ, আমাদের জেলায় একজন সচিব যাবেন। আমরা তাঁকে বরণ করে নেব, ঠিক আছে। কিন্তু তাঁরা যান না। এক দিনের জন্য তাঁরা দায়িত্বপ্রাপ্ত।’

তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হন। তখন মন্ত্রীরা জেলার দায়িত্ব পালন করতেন। সেখানে গেলে কর্মীরা আসত। মন্ত্রীরা গ্রামেগঞ্জে যেতেন। কোথায় যেন সেই দিনগুলো হারিয়ে গেছে।

উনসত্তরের গনঅভ্যুত্থানের মহানায়ক, বঙ্গবন্ধু'র রাজনৈতিক সচিব, ডাকসুর সাবেক ভিপি, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, সাবেক মন্ত্রী বর্ষীয়ান রাজনৈতিক নেতা শ্রদ্ধেয় জননেতা তোফায়েল আহমেদ সংসদে দাঁড়িয়ে আওয়ামী অন্তঃপ্রাণ প্রতিটি নেতা-কর্মীদের মনের কথা এবং বর্তমান বাস্তবতা তুলে ধরেছেন। তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।