ঈদগাঁওয়ের ঐতিহ্যবাহী খাল এখন অস্তিত্বহীন, খননের দাবি

  ঈদগাঁও সংবাদদাতা  সোমবার | জুন ২১, ২০২১ | ০২:৫৮ পিএম

দখল, ভরাটে বিপন্ন কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁও এলাকার ঐতিহ্যবাহী খালটি। দেখার কেউ না থাকায় খালের ওপর ঘরবাড়ি, দোকানপাঠ নির্মাণের হিড়িক অব্যাহত আছে । এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে খালের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ার আশংকা করছেন স্থানীয়রা।

সূত্র মতে, এ খাল দিয়ে একসময়ে পাল তোলা নৌকা চলাচল করত। বর্তমানে খালের অস্তিত্ব বিলুপ্তির পথে। চলছে খাল দখলের মহোৎসব। কালের পরিক্রমা সে খালের বুকে এখন পাকা-আধা-পাকা দালানের সমারোহ। দখলের থাবায় খাল এখন নিজস্ব স্বকীয়তা হারিয়ে মরা খালের উপাধি লাভ করেছে। খালটি খননের দাবি এলাকাবাসী।  

দেখা যায়, ঈদগাঁওর মেহেরঘোনা জলনাসী যেটি উত্তর-মধ্যমসহ দক্ষিণ মাইজপাড়া হয়ে চৌফলদন্ডীর বুক চিরে মহেশখালী চ্যানেল দিয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মিলিত হয়েছে। এখন সে চিরচেনা বৃহত্তর এলাকার খালটি নানাভাবে বেদখলে চলে গেছে। কেউ করেছেন খালের পাশ ঘেঁষে দালান, কেউ করেছেন দোকান ঘর। ফলে খালটি অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছে। 

স্থানীয়রা জানান, এখন খাল বেদখল,পানি এবং মাছ শুন্য। ক্ষীণ ধারা বয়ে যাওয়া খালের দুই ধারে এখন দোকান পাট এবং পাকা দালান। দখল আর দূষণের থাবা থেকে খালটিকে মুক্ত করে খনন করা না হলে আগামীতে এসব খালের কোন স্মৃতি চিহ্নও খোঁজে পাওয়া যাবে না। প্রতিবর্ষা মৌসুমে পানি সুষ্টভাবে চলাচল করতে না পারায় দু-কুল পানিতে প্লাবিত হয়ে যায়। পানি যাতায়াতের সুব্যবস্থা না থাকায় সারাক্ষণ পানিবন্দি থাকে হাটা চলার পথও। 

বয়োবৃদ্বরা জানান, এটি এক সময়ে বড় খাল ছিল। খাল দিয়ে নৌকা ও সাম্পান চলাচল করতে, মাছও পাওয়া যেত এই খালে। অব্যবস্থাপনার কারণে পানি প্রবাহ হারানো খালটি এভাবে দখলে চলে যাচ্ছে। খাল উদ্ধারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তড়িৎ পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

পবিবেশবাদী এক সংগঠক জানান, অবিলম্বে খালটি দখলমুক্ত করে খননের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা না গেলে এই খাল অস্তিত্বহীন হয়ে পড়বে। বন্যা, জলাবদ্বতাসহ নানামুখী দূর্ভোগের কবলে পড়বে এলাকাবাসী। 

সাবেক মেম্বার ছুরুত আলম জানান, বিগত ৭ বছর পূর্বেও ঈদগাঁওর মাইজ পাড়ার খালটি খননের মাঝপথে বাঁধা আসায় খনন না করেই কৌশলে সটকে পড়েছিল খনন কাজে নিয়োজিত লোকজন।