মানুষের জীবন-জীবিকাকে গুরুত্ব দিয়ে সরকার করোনা মোকাবিলা করছে: অধ্যাপক ডাঃ এম এ আজিজ 

  নিজস্ব প্রতিবেদক   বুধবার | মে ৫, ২০২১ | ০৩:১৮ এএম

জনগণ ও সরকার একসঙ্গে চেষ্টা চালিয়ে গেলে সহজেই করোনা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব উল্লেখ্য করে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ বলেছেন, ভারতের বেঙ্গল স্ট্রেইন ও করোনার তৃতীয় ঢেউ মোকাবিলায় সরকার লকডাউন আরও ৭ দিন বাড়িয়েছে। জনসচেতনতা তৈরিতেও বেশ তৎপর রয়েছে সরকার। দোকানি-ক্রেতাসহ সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে করোনাভাইরাস দ্রুত ছড়াবে না।

তিনি বলেন, দেশে করোনা টিকার একটা সংকট তৈরি হয়েছিল। ইতিমধ্যে সরকার রাশিয়ার ৪০ লাখ ভ্যাকসিন সামনের মাসে পাবে। রাশিয়ার স্পুটনিকভি ও চীনের সিনোফার্মের করোনা ভাইরাসের টিকা বাংলাদেশেই উৎপাদন হবে পারমিশন দিয়েছে সরকার। চীনের ভ্যাকসিন ও আনার চেষ্টা চলছে। ৫ লাখ ভ্যাকসিন দুই এক সপ্তার মধ্যে পাঠিয়ে দিবে। চীন থেকেও ভ্যাকসিন আনার চুক্তি হয়েছে।

পাশাপাশি কোভিডের কিছু ভ্যাকসিন আসতেছে। কোভিডের ভ্যাকসিন কিনার চেষ্টা চলছে। আমেরিকা থেকে অ্যাস্ট্রজেনেকার ভ্যাকসিন আনার প্রক্রিয়া চলছে। ভ্যাকসিন নিয়ে আমাদের কোন সমস্যা হবে না। সরকার টিকা কেনার চেষ্টা করছে। রাশিয়ার উৎপাদন ছাড়াও বিভিন্ন দেশ থেকে টিকা আনতে চেষ্টা করছে সরকার। আমেরিকা ভারতের করোনার টিকা উৎপাদনের কাঁচামাল রপ্তানি বন্ধ করার কারণে দেশটি টিকা রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। কিন্তু আমেরিকা আবারও তাদের কাঁচামাল রপ্তানি শুরু করেছে। সেক্ষেত্রে আশা করা যায়, সেরাম ইনস্টিটিউটের বাকি টিকাও পাওয়া যাবে। সেক্ষেত্রে টিকার কোনো সংকট হবে না।

 সম্প্রতি সাংবাদিকদের আলাপকালে অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ বলেন, সরকার মানুষের জীবন ও জীবিকাকে গুরুত্ব দিয়ে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা করে যাচ্ছে। বৈশ্বিক মহামারি করোনার বিস্তার রোধে বিভিন্ন দেশে লকডাউনের ভিন্নতা রয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক ও চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে লকডাউন দেওয়া হয়ে থাকে। তেমনি বাংলাদেশেও ব্যালেন্স লকডাউন চলছে। নিজের ও পরিবারের সুরক্ষার কথা চিন্তা করে মানুষ সচেতন হলে এই লকডাউনেও করোনা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।

তিনি বলেন, দেশের আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপটে সবকিছু বন্ধ করে দিয়ে লকডাউন বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। কোনো দেশই এটা পারবে না। করোনা আক্রান্তের বাইরেও বিশাল জনগোষ্ঠী রয়েছে। তাদেরও বাঁচাতে হবে। জীবিকার তাগিদে শপিংমল ও দোকান খুলে দেওয়া হয়েছে।
ডা. এম এ আজিজ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। লকডাউনের শুরু থেকে গণপরিবহণও সেভাবে চলেনি। কাজেই লকডাউন বা করোনার সময় সরকার সবকিছু খুলে দিয়েছে, সেটা বলা যাবে না। আমাদের দেশে ব্যালেন্স লকডাউন চলছে। জীবন ও জীবিকা একসঙ্গে ব্যালেন্স করতে বিশ্বের অনেক দেশেই এমন লকডাউন চালু আছে।

স্বাচিপ মহাসচিব বলেন, দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণের পথে থাকলেও ভয় জাগাচ্ছে ভারতের করুন পরিস্থিতি । সরকার যদিও ভারতের সঙ্গে স্থলবন্দরগুলো এরই মধ্যে বন্ধ করে দিয়েছে। তবুও দুই দেশের মানুষের আসা যাওয়া আরও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ভ্যাকসিন ও অক্সিজেনসহ ভারতের সঙ্গে দেশের চিকিৎসা ও অর্থনীতির অনেক কিছুই জড়িত। তাই সরকার বিচক্ষণতার সঙ্গে এরই মধ্যে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। বিশেষ করে দেশের কয়েকটি কোম্পানিকে অক্সিজেন উৎপাদনের অনুমতি দিয়েছে সরকার।

স্বাভাবিক সময়ে বাংলাদেশ ১২০ মেট্রিক টন অক্সিজেন লাগে। বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয় ২০% অক্সিজেন। বাংলাদেশের পাঁচটি অক্সিজেন কোম্পানি অক্সিজেন উৎপাদন করে । তাদের মধ্যে লিন্ডাই ১১০ মেট্রিক টন ও পেট্রো ৫০ মেট্রিক টন অক্সিজেন উৎপাদন করে। সরকার এ সময়ে ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল সাপ্লাই বন্ধ করে দিয়েছে। সুতরাং অক্সিজেনেরও কোন সমস্যা হবে না। যদি ক্রাইসিস হয় তাহলে সরকার বাহির থেকে ও আমদানি করতে পারবে। তাছাড়া দ্রুততম সময়ে ভারতের বিকল্প হিসাবে বেশ কয়েকটি দেশ থেকে অক্সিজেন আমদানি করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা গত ১লা বৈশাখ মাসে কোভিড এর দ্বিতীয় ধাপ মোকাবেলায় যে বক্তব্যে রেখেছেন মুলনীতি ৪টি বিষয়ের ওপর। কর্মসূজন করা, সামাজিক সুরক্ষা বজায় রাখা, খাদ্য সহায়তা বৃদ্ধি, মুদ্রা সরবরাহ বৃদ্ধি। মানুষের জীবন জীবিকা, অর্থনৈতিক সচল রাখাসহ নানাবিধ পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি। মানুষের আর্থিক সহায়তা প্রদান পল্লী অঞ্চলে মানুষের জন্য ৮০৭ কোটি টাকা , ঈদুল ফিতরের জন্য ৬৭২ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা করেছেন। দেশের মানুষের উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন সহযোগিতা করে যাচ্ছেন । পাশাপাশি রাজনৈতিক দল সমুহকেও মানুষের পাশে থাকার জন্য আহবান জানিয়েছেন তিনি।

দেশে কৃষকের ধান কাটার জন্য আওয়ামী লীগের সহযোগি সংগঠনও মাঠে কাজ করছে। সব মিলিয়েই আমরা মনে করি জননেত্রী শেখ হাসিনা কোভিডের জন্য যে পদক্ষেপ নিয়েছেন তা প্রশংসার যোগ্য। বিভিন্ন ফোরামে আন্তর্জাতিক বিশ্বে বৈশ্বিক নেতৃত্বের আহবান জানিয়েছেন তিনি । এটা শুধু বালাদেশের সমস্যা নয়, এটা বিশ্ববাসীর সমস্যা। আন্তজার্তিক ভাবে ভ্যাকসিনকে গণপণ্য হিসাবে উল্লেখ করেছেন। ভ্যাকসিন ম্যানেজমেন্ট এ যেন সকল দেশ এগিয়ে আছে এবং যাদের সক্ষমতা আছে তারা যদি এগিয়ে আসে তাহলে গরীব দেশগুলোও ভ্যাকসিন পাবে। এ বিষয়ে সকল দেশের প্রতি আহবান জানিয়েছেন সহায়তা করার জন্য। আসলে সরকারকে জনগণের সহযোগিতা করা দরকার। সবারই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা উচিত।