মাস্ক ও খোলামেলা কক্ষ কী করোনা রুখতে পারে?

  স্বাস্থ্যপাতা ডেস্ক   সোমবার | এপ্রিল ১২, ২০২১ | ০১:৩৪ এএম

বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে করোনা সংক্রমণ এখন আগের তুলনায় আরো দ্রæত ছড়াচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতিতে টিকা নেওয়ার পাশাপাশি করোনার স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। তবে সা¤প্রতিক এক গবেষণা বলছে, শারীরিক দূরত্বের চেয়ে মাস্ক পরা ও রুমে ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা রাখা অত্যন্ত জরুরি। 

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয় এই বিষয়টির ওপর স¤প্রতি একটি গবেষণা বা সমীক্ষা প্রকাশ করে। এতে তারা দেখে, সামাজিক ও শারীরিক দূরত্বের চেয়েও বেশি প্রয়োজন মাস্ক ব্যবহার করা এবং রুমে ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা থাকা।

বিখ্যাত জার্নাল ফিজিকস ফ্লুইডে প্রকাশিত সমীক্ষাটি বলছে, কেউ হয়তো মাস্ক পরল এবং শারীরিক দূরত্বও মেনে চলল। কিন্তু কোনো অফিসে একজন করোনা আক্রান্ত হলে তাঁর থেকে বাতাসের মাধ্যমে বাকিদের মধ্যে ছড়াতে পারে। এতে ঝুঁকির পরিমাণ অনেক বেশি। একটি স্কুলের মডেল ক্লাসরুমে এই গবেষণাটি করা হয়। রুমটির আকার ৭০৯ স্কয়ার ফিট, যার সিলিং ৯ ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট। রুমে শিক্ষকসহ প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মুখে মাস্ক ছিল। যে কারো মধ্যে করোনাভাইরাস সংক্রমণ থাকার আশঙ্কা ছিল। এজন্য দুইভাবে পরীক্ষাটি করা হয়। দরজা খুলে রাখা অবস্থায় অর্থাৎ ভেন্টিলেশন আছে এমন একটি রুম আর ভেন্টিলেশন নেই এমন একটি রুমকে বেছে নেওয়া হয়। যাকে বলে ঈড়সঢ়ঁঃধঃরড়হধষ ঋষঁরফ উুহধসরপং সড়ফবষং. বিশেষজ্ঞরা দেখেছেন, মাস্ক পরা অবস্থায় রুমের ভেতরে সবার শ্বাস-প্রশ্বাসের ফলে যথেষ্ট ঘাম বের হয়ে ভাপ তৈরি হয়েছে। 

তবে গরম ভাপ বাতাসে ছড়ানো কোনো ভাইরাসকেই দেহে প্রবেশ করতে দেয়নি। এই গবেষণার মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হলো করোনার সংক্রমণ ঢেকাতে বা কমাতে পারে মাস্ক। অন্যদিকে ভেন্টিলেশন আছে এবং বাতাস পরিবর্তন হয়েছে (এয়ার ফিল্টারেশন) এমন ঘরে করোনা সংক্রমণ ছড়ানোর মাত্রা ৪০-৫০ শতাংশ কম হয়। দুটি পরীক্ষা তুলনা করে দেখা গেছে, ভেন্টিলেশন থাকা ঘরের চেয়ে ভেন্টিলেশন না থাকা ঘরে ২৯ শতাংশ বেশি ভাইরাস ছড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেকোনো জায়গা বিশেষ করে স্কুল, অফিস বা এই ধরনের কোনো জায়গায় ঠিকমতো এয়ার ফিল্টারেশন হলে করোনা সংক্রমণ ঠেকানো যায়। 
গ্রন্থনা : ডাক্তার আছেন ডেস্ক