সাইমু মাহমুদা মজুমদার নামে ফেসবুকে অভিনব প্রতারণা

  জাগো প্রতিদিন ডেস্ক:   বুধবার | মার্চ ১০, ২০২১ | ০৩:১৭ পিএম

ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের কর্মকর্তা পরিচয়ে অভিনব প্রতারণা শুরু করেছে সাইমু মাহমুদা মজুমদার নামের একটি প্রোফাইল থেকে। কখনো তিনি পুলিশ কর্মকর্তা, কখনো তিনি এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট। আবার তার পদায়ন নাকি প্রধানমন্ত্রীর দফতরে। এমন পরিচয়ই দীর্ঘদিন দিয়ে আসছে। গত দুদিন যাবত মুনিয়া নামের একটা শিশুর ফুসফুসের ক্যান্সারের চিকিতসার কথা বলে লাখ লাখ টাকা তুলে নিচ্ছে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাইমু মাহমুদা মজুমদার প্রোফাইলে ব্যবহৃত ছবির মালিকের নাম সানজিদা সিমি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৪০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। উক্ত বিভাগের অধ্যাপক মানস চৌধুরীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিলো বলেও জাহাঙ্গীরনগরের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। পরবর্তীতে মানস চৌধুরীর সঙ্গে বিচ্ছেদ এর পর তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন হিসেবে চিহ্নিত করে সবাই। একেক সময় একেক পরিচয় ব্যবহার করে রীতিমত ফেসবুকে নৈরাজ্য সৃষ্টি করছেন তিনি।

এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিলেও তিনি আদ্যো কোন জব করেন না বলেই নিশ্চিত করেছে তার সহপাঠীদের মধ্যে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন। এদিকে সাইমু মাহমুদা মজুমদার ওরফে সানজিদা সিমির প্রতারণার ফাঁদে পরে অনেকেই মুনিয়ার চিকিতসার জন্য টাকা পাঠিয়ে দিয়েছে।

শিশু মুনিয়ার চিকিতসার কথা বলা হলেও তিনি তার পোস্টে দেখাতে পারেননি চিকিতসা সংক্রান্ত কোন ডকুমেন্ট। আবার চিকিতসা করা হচ্ছে সম্মিলিত সামরিক হসপিটালে এমনটাও লিখেছেন। সম্মিলিত সামরিক হসপিটালে খোঁজ নিয়ে জানা যায় ওই নামে কোনো রোগী তাদের ওখানে ভর্তি নেই।

এদিকে সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশের একাধিক ইউনিট তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছে। এরই মধ্যে বিপদ আঁচ করতে পেরে লাখ লাখ টাকা তুলে ফেসবুক প্রোফাইলও ডিএক্টিভ করে ফেলেছে।

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায় এ নামে তাদের কোনো কর্মকর্তা নেই। এডমিন ক্যাডারদের কেউই তাকে চিনেন না। শুধু ফেসবুকের ওপর ভর করে নিয়োগ বাণিজ্য থেকে শুরু করে মিথ্যা চিকিতসার পোস্ট দিয়ে লাখ লাখ টাকা তুলে লাপাত্তা তিনি।