খানাখন্দে অচলাবস্থা মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ-টেকেরহাট সড়কের

   বুধবার | ডিসেম্বর ১, ২০২১ | ১২:৫৮ পিএম

আজমল হোসেন, মিরসরাই (চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম জোরারগঞ্জ-টেকেরহাট সড়ক। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে শত শত গাড়ী যাতায়াত করে থাকে। টেকসই সংস্কার না করার কারণে বেশিদিন কার্পেটিং টিকছে না।সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় গর্তের। চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এই সড়ক দিয়ে চলাচল করা হাজার হাজার মানুষকে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ১৩ কিলোমিটারের সড়কটির প্রায় ৫-৭ কিলোমিটারের অংশে ভেঙ্গে গিয়ে ছোট-বড় গর্তে পরিণত হয়েছে।ছোট-বড় পিকআপ, বাস-ট্রাক, এ্যাম্বুল্যান্স, কার-মাইক্রো, স্কুলবাসসহ সিএনজি চালিত অটোরিক্সার চলাচল রয়েছে। সড়কে সৃষ্ট গর্তের কারণে কোন যানবাহনই স্বাভাবিক ভাবে চলতে পারছে না।সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকায় মনে হবে একটু আগেই বৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া সড়কে থাকা পানি নিস্কাশনের সুবিধা না থাকায় পানি জমে বেশি ক্ষতি হচ্ছে।

১০ মিনিটের রাস্তা অতিক্রম করতে লেগে যাচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট বা তার চেয়েও অধিক। এদিকে বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীরা যথাসময়ে বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছে।একদিকে যেমন সড়কের ভোগান্তি অন্যদিকে সময় ও ভাড়ার বিড়ম্বনা। এমনটি জানিয়েছেন উক্ত সড়কে চলাচলকারী ভুক্তভোগীরা।

জানা গেছে, জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক দিয়ে চট্টগ্রামের সর্ববৃহৎ মৎস্য জোন মুহুরী প্রকল্পসহ ৪ ইউনিয়ন ও ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত। এছাড়াও প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী জোরারগঞ্জের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে। এই এলাকার মানুষ হাসপাতাল, দৈনন্দিন বাজারের এবং উপজেলা সদরে যাতায়াত করেন এই সড়ক হয়ে। অথচ সড়কের এই বেহাল অবস্থার কারণে তারা যথাসময়ে তাদের দৈনন্দিন কাজ করতে পারছেন না। আর এদিকে চলাচলরত যানবাহনগুলোর যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে কখনো সড়কে আটকে যাচ্ছে। আবার তারা আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থও হচ্ছেন। সড়কের ভাঙ্গার কারণ হিসেবে দেখা যায়, মুহুরী প্রজেক্ট হচ্ছে চট্টগ্রামের সর্ববৃহৎ মৎস্য প্রকল্পের দীঘিগুলোতে প্রতিরাতে মাছ বাজারজাত করতে এই সড়কে ড্রামে পানি নিয়ে শত শত পিকআপ, ট্রাক চলাচল করে। ফলে রাস্তা কোনভাবেই টেকসই হচ্ছেনা।

এই সড়কে চলাচল করা বারইয়ারহাট শেফা ইনসান হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এস এ ফারুক বলেন, সড়কের অবস্থা এতো বেশি খারাফ হয়েছে যে ১০ মিনিটের রাস্তা পাড়ি দিতে ৪০-৪৫ মিনিট সময় লাগে। নিম্মমানের সংস্কার তার উপর মাছ বোঝায় গাড়ির কারণে এই দুরবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। আমরা এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চাই।

মৎস্য চাষী আনোয়ার হোসেন বলেন, সড়কের দুবস্থার কারণে আমরা সময় মতো আড়তে মাছ নিতে পারছি না। বিশেষ করে বোর্ড অফিসের পাশে সড়কের অবস্থা খুব ভয়াবহ। এতে করে প্রায়শ আর্থিক ক্ষতির সম্মুক্ষিন হতে হচ্ছে। সড়কটি দ্রæত সংস্কারের দাবী জানাচ্ছি।

ফটিকছড়ি উপজেলা থেকে পর্যটন স্পট মুহুরী প্রজেক্টে ঘুরতে আসা ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, মুহুরী প্রজেক্ট অনেক সুন্দর পর্যটন স্পট। আমি পরিবার নিয়ে এখানে ঘুরতে এসেছি। কিন্তু সড়কের অবস্থা বেশি খারাফ। আসতে অনেক কষ্ট হয়েছে। সড়ক এমন থাকলে মানুষ ঘুরতে যাওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে।

ওচমানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মফিজুল হক বলেন, সড়কের কারণে এলাকা থেকে অন্য জায়গায় যেতে মন চায় না। আমার অন্য জায়গায় গেলে এলাকায় আসতে মন চায় না। সড়কের সংস্কারের বিষয়ে উপজেলার সমন্বয় সভায় কয়েকবার আলোচনা করেছি।

মিরসরাই উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জমান বলেন, জোরারগঞ্জ-টেকেরহাট সড়ক পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন। বার বার এই সড়ক নষ্ট হয় মাছ বোঝাই গাড়ি চলাচলের কারণে। মাছের ড্রামে কেমিক্যাল যুক্ত যে পানি ব্যবহার করা হয়, তা রাস্তায় পড়ে দ্রæত নষ্ট হয়। এছাড়া এই সড়ক যেভাবে টেকসইয়ে সংস্কার করা প্রয়োজন তা হচ্ছে না। সড়কটির গুরুত্ব বুঝে আলাদা ডিভাইজে সংস্কার করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগের চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা বলেন, সড়কটি সংস্কারের জন্য দরপত্র বিজ্ঞপ্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই এই সড়কটির সংস্কার কাজ করা হবে। এছাড়া উক্ত সড়কে পিকআপ, ট্রাক চলাচলের বিকল্প ব্যবস্থা না করলে সংস্কার করলেও সড়কটি বেশিদিন টেকসই হবে না।