বিএসএমএমইউতে নানা আয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর ৭৫তম জন্মদিন উদযপণ

  মঙ্গলবার | সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২১ | ০৪:০৮ পিএম

জাগো প্রতিবেদক 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ইমাজেন্সী ল্যাবরেটরি, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচীর উদ্বোধন, আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কান প্রতিযোগিতা, কেক কাটা, বেলুন উড়ানো এবং দেশের অগ্রগতি, উন্নয়ন ও প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য, শতায়ু কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিলসহ নানা আয়োজনে বাংলাদেশের মানুষের আশা আকাঙক্ষার প্রতীক, বিশ্ব নন্দিত নেতা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উদযাপিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জন্মদিন উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেবিন ব্লকের নিচ তলায় ইমাজেন্সী ল্যাবরেটরির উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ। এর আগে উপাচার্য এফ ব্লকে অনুষ্ঠিত অটিস্টিক শিশুদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কান প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন। পরে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে বনজ, ফলজ ও ওষুধি গাছের চারা রোপণ করে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন। দিনের শুরুতে উপাচার্য শিশু কিডনী বিভাগ আয়োজিত ব্লাডার ক্লিনিক উদ্বোধনসহ এ্যাডভান্সিং পেডিয়াট্রিক নেফ্রোলজি কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করেন। সকাল ১১টায় এ ব্লক অডিটোরিয়ামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভায় অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দেশের অগ্রগতি, উন্নয়ন ও প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য, শতায়ু কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
এ ব্লকে অডিটোরিয়ামে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র এবং জাতীয় সংসদের শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আমির হোসেন আমু, এমপি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মোঃ জাহিদ হোসেন, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. একেএম মোশাররফ হোসেন, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. ছয়েফ উদ্দিন আহমদ, ডেন্টাল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আলী আসগর মোড়ল, শিশু অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. শাহিন আকতার, নার্সিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ হোসেন, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ, সাবেক উপ-উপাচার্য  অধ্যাপক ডা. মোঃ শহীদুল্লাহ সিকদার, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল হান্নান, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মোঃ হাবিবুর রহমান দুলাল, হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ডা. এসএম মোস্তফা জামান, পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) নিউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আবু নাসার রিজভী, পরিচালক (হাসপাতাল) বিগ্রেডিয়ার জেনারেল ডা. নজরুল ইসলাম খান, শিশু কিডনী বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আফরোজা বেগম, ল্যাবরেটরি মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. দেবতোষ পাল, ল্যাবরেটরি মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মোঃ কুদ্দুস-উর-রহমান, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোঃ সাইফুল ইসলাম, সহকারী প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ডা. আরিফুল ইসলাম জোয়ারদার টিটো, সহকারী প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিত কুমার কুন্ডু, সহকারী প্রক্টর সহকারী অধ্যাপক ডা. মোঃ ফারুক হোসেন, মিডিয়া সেলের প্রধান সমন্বয়ক সহকারী অধ্যাপক ডা. এসএম ইয়ার-ই-মাহাবুব, সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. পবিত্র কুমার দেবনাথসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা, নার্স, কর্মচারীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে অংশগ্রহণ করেন ও মূল্যবান বক্তব্য রাখেন । 
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমির হোসেন আমু, এমপি বলেন, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিপদ সংকুল পরিস্থিতি থেকে দেশকে রক্ষা করেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারণেই বাংলাদেশ নব্য পাকিস্তান হওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছে। খাদ্য ঘাটতির বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছেন। দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করেছেন। বাঙালি জাতিকে নতুন ধারায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

সভাপতির বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাংলাদেশের জন্ম হত না। আর জননেত্রী শেখ হাসিনার জন্ম না হলে আমরা আজকের বাংলাদেশ পেতাম না। তিনি ৭৫ এ এবং ২০০৪ এ ঘাতকদের হাত থেকে বেঁচে যান বলেই আমরা আজকের বাংলাদেশে বসবাস করতে পারছি। শেখ হাসিনা না থাকলে আজ এদেশ হত পাকিস্তান, আফগানিস্তান বা অন্য কোনো সন্ত্রাসের জনপদ। তিনি বেঁচে থাকায় আর সেটা হয়নি। আজ আমাদের বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে উন্নয়নের এক রোল মডেল। আর যাঁর হাত ধরে এই অভিযাত্রা তিনিই আমাদের প্রাণপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধু যে শিশুকে জন্ম দিয়ে অকালে চলে গেছেন কিন্তু বড় করে দিয়ে যেতে পারেন নি, তাঁর সেই সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা পরিবারের সবকিছু হারানোর শোককে শক্তিতে পরিণত করে বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড় করিয়েছেন। তাই জন্মের জন্য বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর কাছে, আর অস্তিত্বের জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে চিরঋণী। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, সব হারিয়েও যিনি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন সাফল্যের সর্বোচ্চ চূড়ায়, বর্ণাঢ্য সেই সংগ্রামী ব্যক্তিত্ব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ ঘটেছে। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন নীতি সংক্রান্ত কমিটি বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। মানুষের গড় আয়ু প্রায় ৭৩ বছরে উন্নীত হয়েছে। মাতৃমূত্য ও শিশুমৃত্যু হার হ্রাস পেয়েছে। সীমাবদ্ধ সম্পদ ও বিপুল জনগোষ্ঠী নিয়ে এ অর্জন যে প্রশংসনীয় ব্যাপার তা জাতীয়সহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সবাই স্বীকার করেন।