অটোয়া হাইকমিশনে তথ্য প্রতিমন্ত্রীকে অভ্যার্থনা

  মঙ্গলবার | সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২১ | ০৩:৫৩ পিএম

জাগো ডেস্ক:

কানাডার অটোয়া হাইকমিশনে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান এমপি'কে অভ্যার্থনা জানানো হয়েছে।  এসময় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান এমপি বলেন, কানাডা এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্রদ্বয়ের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিরাজমান। ১৯৭২ সালে এ দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক স্থাপিত হয়। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পরপরই বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে কানাডা । কানাডা বাংলাদেশের ভালো বন্ধুপ্রতিম দেশ। দুই দেশেই গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা বিরাজমান। গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, মানবাধিকার, আইনের প্রয়োগ ইত্যাদির মূল্যবোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত এ দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক মূলত বাণিজ্য, বিনিয়োগ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, উন্নয়নমূলক সহযোগিতা, অভিবাসন প্রভৃতি বিষয়ের ওপর বিশেষ লক্ষ্য রাখে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কানাডা কাজ করে আসছে।
কানাডার উন্নয়ন ও সহযোগিতামূলক কাজের মধ্যে পুননির্মাণ এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম উল্লেখ্যযোগ্য। গণতন্ত্র ও নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের উদ্যোগ ও স্পৃহাকে বরাবরই কানাডা প্রশংসা করে এসেছে।

ডা. মুরাদ হাসান বলেন, বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরতে হবে এবং দেশের বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করবে তাদের বিরুদ্ধে গড়ে তুলতে হবে প্রতিরোধ। বাংলাদেশ এখন নিরাপদ দেশ। যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক ভালো অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ বিরাজমান, দেশে এখন একশ’ টি অর্থনৈতিক অঞ্চল রয়েছে, যেখানে যে কোনো ব্যবসা ও শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনের পরিবেশ রয়েছে। এ ব্যাপারে সরকার সর্বাত্বক সহযোগিতা করছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের সাথে কানাডার বাণিজ্যে সম্ভাবনার খাতগুলো চিহ্নিত করে কানাডাকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করতে হবে, তাদের সাথে আলাপ আলোচনা করতে হবে। দু’দেশের মাঝে ব্যবসায়িক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন ও বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও দৃঢ়করণের লক্ষ্যে কাজ করতে হবে হাইকমিশনকে। কানাডায় হিমায়িত ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশেরও এই দুইটি খাতেই রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে। কানাডা বাংলাদেশে শিক্ষা স্বাস্থ্যসহ নানাখাতে বিনিয়োগ করেছে। বাংলাদেশের সাথে যৌথ অংশিদারিত্বে কাজ করতে ইতোমধ্যে আগ্রহব্যক্ত করেছেন।  
 উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সাথে কানাডার সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবেই বন্ধুত্বপূর্ণ, যার গভীরতা গত পঁয়তাল্লিশ বছরে আরও বেড়েছে। স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠালাভের সময় রাজনৈতিক সম্পর্কে যাত্রা শুরু করে। মুক্তিযুদ্ধের সময় কানাডা সরকার, জনগণ এবং মিডিয়া বাংলাদেশের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছিল। কানাডা সেই সকল দেশের একটি যারা বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পরপরই (১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২) বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে। এর পরেই ১৯৭২ সালের মে মাসে বাংলাদেশ কানাডায় রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করে এবং কানাডা বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেয় ১৯৭৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। এরপর থেকে দুই দেশের মধ্যে ধীরে ধীরে সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটতে থাকে। রাজনৈতিক সম্পর্কও কমনওয়েলথ এবং নানাবিধ ইউএন কর্মকাণ্ডে বরাবরের মতই সহযোগিতামূলক ছিল। 

অভ্যার্থনা অনুষ্ঠানে অটোয়ার হাইকমিশনার ডা.খলিলুর রহমানসহ হাইকমিশনের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।