সন্তানকে লুকিয়ে রেখে অপহরণ মামলা, ১২ বছর পর উদ্ধার

  মঙ্গলবার | সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২১ | ০৬:০২ পিএম

হবিগঞ্জ  জেলা প্রতিনিধি

হবিগঞ্জে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে গিয়ে নিজ কন্যাকে লুকিয়ে রেখে অপহরণ মামলা দেয়ার ১২ বছর পর ভিকটিম জফুরা খাতুনকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিজের নাম পরিবর্তন করে ঢাকার একটি গার্মেন্টেসে চাকুরী করত। পুলিশ ঢাকার কদমতলী থেকে ভিকটিমকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।

মঙ্গলবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. মাসুক আলী।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় ১২ বছর পূর্বে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার রাজিউড়া ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামের রমজান আলীর ছেলে ফুল মিয়ার সাথে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে একই গ্রামের মৃত হোসেন আলীর ছেলে হারুন মিয়ার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কিন্তু এলাকার কিছু কুচক্রি মহলের প্ররোচনায় ফুল মিয়ার স্ত্রী আমিনা খাতুন হারুন মিয়ার লোকজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টার মামলা দায়ের করে। মামলাটির দুটি তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হলে হারুন মিয়াকে ঘায়েল করতে ২০১২ সালের ৯ নভেম্বর আমিনা খাতুন তার নাবালিকা মেয়ে জফুরা খাতুনকে অপহরণ করা হয়েছে মর্মে হবিগঞ্জ সদর থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন।

মামলায় আসামী করা হয়- প্রতিপক্ষ আব্দুর রশিদ, ছুরুক মিয়া, আব্বাছ মিয়া ও হারুন মিয়াকে। এই মামলাটিও দুইবার তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হয়। পরবর্তীতে জুডিসিয়াল তদন্তে অভিযোগটি আমলে নেন বিজ্ঞ বিচারক। পরে এই মামলায় আব্দুর রশিদ ও ছুরুক মিয়া দীর্ঘ কারাভোগের পর হাইকোর্ট থেকে এবং আব্বাস মিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে জামিন লাভ করে। হারুন মিয়া আত্মসমর্পণ করেনি।

এই ঘটনার দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর পর ভিকটিম জফুরা খাতুন নতুন নাম ফাতেমা নাম ধারন করে ঢাকার কদমতলীর একটি গার্মেন্টসে চাকুরী করে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত রাতে হবিগঞ্জ সদর থানার এসআই সনত চন্দ্র দাস ঢাকার পুলিশের সহায়তায় ভিকটিমকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন।
ওসি আরI বলেন, বেলা আড়াইটার দিকে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহন করবেন।