শতভাগ টিকার আওতায় আসছে না জবি শিক্ষার্থীরা

  শনিবার | সেপ্টেম্বর ১১, ২০২১ | ০২:৪০ পিএম

ইউছুব ওসমান, জবি সংবাদদাতা

আগামী ৭ অক্টোবর থেকে  আটকে থাকা বিভিন্ন বর্ষের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষাসহ অন্যান্য পরীক্ষা সশরীরে গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি)  তবে এখন পর্যন্ত শতভাগ শিক্ষার্থীকে করোনার টিকায় আনতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের  বেশ কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থী করোনার পূর্ণ ডোজ টিকা গ্রহণ করলেও, কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থী এক ডোজ টিকা গ্রহণ করে অপেক্ষায় আছেন দ্বিতীয় ডোজের জন্য। তবে  উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী এখনও এক ডোজ টিকাও সম্পন্ন করেননি। এর মধ্যে আবার অনেকেই টিকার আবেদন করলেও এসএমএস না আসায় টিকা গ্রহণ করতে পারেননি, অনেকেই এনআইডিসহ বিভিন্ন জটিলতায় এখনও টিকার নিবন্ধনও করতে পারেননি। তাই ৭ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় খোলার আগেই শতভাগ শিক্ষার্থীকে টিকার আওতায় নিয়ে আসা অনেকটাই অনিশ্চিত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তর সূত্রে জানা যায়, এখনোও করোনার টিকার বাইরে থাকা শিক্ষার্থীদের টিকা নিশ্চিতে ব্যবস্থা নিতে কত সংখ্যক শিক্ষার্থী কত ডোজ টিকা নিয়েছে, কারা বাকি আছে, কাদের সমস্যা আছে তার তথ্য জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগক ও ইন্সটিটিউটকে নির্দেশনা দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।গত বৃহস্পতিবার (৯সেপ্টেম্বর) সেই তথ্য প্রেরণের শেষদিন গেলেও এখনও কয়েকটি বিভাগ ছাড়া শিক্ষার্থীদের টিকার তথ্য দেয়নি আর কেউ। এজন্য পরীক্ষার আগেই শতভাগ শিক্ষার্থীকে টিকার আওতায় আনা নিয়ে অনিশ্চয়তা যেন কাটছেই না। 

বিষয়টি নিয়ে  জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আইনুল ইসলাম দৈনিক জাগো প্রতিদিনকে বলেন, আমি এখনই এটা নিয়ে কিছু বলতে পারছি না, রেজিস্ট্রারের সাথে কথা বলে জানতে হবে। তবে এটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা শিক্ষার্থীদের ডাটা নিয়েছি কারা প্রথম ডোজ নিয়েছে, কারা এখনও নেয়নি। যারা প্রথম ডোজ নিয়েছে তারা এখানে নিতে পারবে কি না তা নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি। ৭ তারিখ বিশ্ববিদ্যালয় খুলবে তো এখনও সময় আছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় খোলার আগেই সিদ্ধান্ত জানাবো।

এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান বলেন, বাকি থাকা শিক্ষার্থীদের টিকা নিশ্চিত করতে আমরা সরকারের সাথে বা স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের সাথে যোগাযোগ করতে পারি। তারা যদি দেয় তাহলে হয়তো আমরা সেটা জানাতে পারবো। তাদের ওপর নির্ভর করবে যে তারা কীভাবে আমাদের সাহায্য করবে। 

জানা যায়, এখনও পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবিষয়ে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি৷ পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে রেজিস্ট্রার বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের টিকার  ডাটা কালেক্ট করে দেখবো কারা কারা নিয়েছে আর কারা কারা এখনও নেয়নি। এরপর আমরা সেটা ইউজিসি তে পাঠাবো, ইউজিসি স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ে পাঠাবে। তারপর আমরা যোগাযোগ করবো। এখনও আমরা সব ডাটা কালেক্ট করতে পারিনি। ডাটা কালেক্ট করা হলেই পাঠাবো।
তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে একটু সময় লাগবে বলেও জানান তিনি। ৭ অক্টোবরের মধ্যেই সব শিক্ষার্থীকে টিকার আওতায় আনা না গেলে কি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি এখনও। সেকারণে অনেকটা অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়েছে সশরীরে পরীক্ষার আগেই শিক্ষার্থীদের শতভাগ টিকা কার্যক্রম। এবিষয়ে রেজিস্ট্রার বলেন, যদি পরীক্ষার আগেই সব শিক্ষার্থী টিকার আওতায় না আসে তবে ডিন এবং চেয়ারম্যানরা মিটিং করে উপাচার্যকে জানাবে, তারপর কি করা যায় সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এর আগে শিক্ষার্থীদের টিকার আওতায় আনতে তাদের তথ্য সংগ্রহ করে ইউজিসির মাধ্যমে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ে পাঠায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তারপর থেকেই শুরু হয় জবি শিক্ষার্থীদের টিকা কার্যক্রম৷ তবে এনআইডি না থাকায় টিকার আবেদনে জটিলতা তৈরি হলে বিশেষ ব্যবস্থায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের এনআইডি করার ব্যবস্থা করে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সেই লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ডের সফট কপিও সরবরাহ করা হয়। কিন্তু নানা জটিলতায় এখনও শিক্ষার্থীদের শতভাগ টিকার আওতায় আনতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর মধ্যেই গত ৭ সেপ্টেম্বর উপাচার্যের সভাপতিত্বে বিভিন্ন অনুষদের ডিন এবং বিভাগের চেয়ারম্যানদের সাথে এক বিশেষ সভায় ৭ অক্টোবর থেকে সশরীরে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডিনদের আয়াথে সমন্বয় করে বিভাগগুলোকে পরীক্ষার সময়সূচি প্রণয়নেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এর আগেই শতভাগ শিক্ষার্থী টিকার আওতায় আসবে কিনা সেটা অনেকটাই অনিশ্চিত।