হোটেল বয় থেকে হাজার কোটি টাকার মালিক গাজী মোক্তার! 

  স্টাফ রিপোর্টার :   বুধবার | সেপ্টেম্বর ১, ২০২১ | ১২:০০ এএম

দেড় যুগ আগের সেই হোটেল বয় এখন হাজার কোটি টাকার মালিক। তাঁর উত্থানের পরতে পরতে রয়েছে নাটকীয় সব কাহিনী। হোটেল বয় থেকে শুরু হয় তার মাদক কারবার, অনৈতিক কর্মকান্ড ও ডিজে পার্টির আয়োজন। দেশ-বিদেশে নারী সরবরাহসহ ধন্যাঢ্য ব্যক্তিদের ব্ল্যাকমেইল করে সে হাতিয়ে নিত লাখ লাখ টাকা। অবৈধ উপার্জনের টাকায় দেশ বিদেশেও গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। সূত্রে জানা যায়, মোক্তারের মাদক কারবার ও নারী সরবরাহ চক্রে রয়েছে মডেল ও চিত্রনায়িকাদের ২০ জনের একটি দল। তারা রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত এলাকা গুলশান, বারিধারা, বনানী, মিরপুরে মোক্তারের গড়ে তোলা বারগুলোতে ডিজে পার্টির নামে মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ডের ব্যবস্থা রয়েছে। এসব পার্টিতে অংশগ্রহণকারীদের কৌশলে ব্ল্যাকমেইল করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হতো। এছাড়াও উচ্চবিত্ত প্রবাসীদের জন্য দুবাই, ইউরোপ, আমেরিকায়ও এ ধরনের পার্টির আয়োজন করাই ছিল তার নিত্যদিনের কর্ম। জানা যায়, মোক্তার ২০০৪ সালে গুলশানের একটি হোটেলের বয় ছিলেন। ওই সময় থেকেই হোটেলে আসা বিভিন্ন মাদক কারবারীদের সাথে জড়িয়ে পরে গাজী মোক্তার। তখন থেকে মাদক ব্যবসা গড়ে তুলেছিলেন এই মোক্তার। গুলশান, বনানী, উত্তরার মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি থাকায় বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা খালেদ ও ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল কাইয়ুম এর সহযোগিতায় গাজী মুক্তার ঢাকার গুলশান-২ এলাকায় লেক ভিউ প্লাজা ভাড়া নিয়ে আবাসিক হোটেল ব্যবসা শুরু করেন। এর পর থেকেই ঢাকার উত্তরায় ইবনে সিনা হসপিটালের সামনে কিং ফিশার, মিরপুরে মুক্তিযোদ্ধা শপিং কমপ্লেক্সের ৮ম ও ১০ম তলায় (শাহ-আলী মাজারের কাছে) ডিসকো মদের বার, গুলশান-২ এলাকায় ইউনাইটেড হসপিটালের সামনে কোরিয়ান ক্লাব ও ৪৩ নন্বর রোডে অবস্থিত হোটেল ‘লেক ভিউ’ প্লাজাসহ রাজধানীর অনেক এলাকায় নামে-বেনামে মদের বার ও নাইট ক্লাব গড়ে তুলেন। আর ওইসব বারেই প্রতিদিন রাতে চলে রঙ্গমহল।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গাজী মুক্তার ঢাকাতে মাদক, নারী সরবরাহ ও বিভিন্ন অপকর্মের পাশাপাশি নিজ জন্মস্থান চাঁদপুরের মতলবে মেঘনা নদী থেকে অবাধে বালু তোলে শত কোটি টাকার মালিক বনে যান। এ বালু উত্তোলনের কারণে মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প হুমকির মুখে পড়েছে। যার প্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ১১ মার্চ স্থানীয় সংসদ সদস্য বালু উত্তোলন বন্ধ রাখতে ভূমি মন্ত্রণালয়ে দরখাস্ত (ডিও লেটার) পাঠান। স্থানীয় প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করে ফের গাজী মোক্তার বালু উত্তোলন শুরু করলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য কাজী মিজানুর রহমান মহামান্য হাইকোর্টে স্থায়ীভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের জন্য রিট করেন। পরবর্তীতে মহামান্য হাইকোর্ট ২০২০ সালের ২৩ জুনে শুনানী শেষে মতলবের মেঘনা নদীর সকল মৌজায় স্থায়ীভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের আদেশ দেন। গত এক বছর ধরে নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ থাকলেও আবারো বালু উত্তোলন করতে চেস্টা চালাছে মোক্তার। যার প্রেক্ষিতে আগস্ট মাসে জহিরাবদ, এখলাশপুর, মোহনপুর ও ষাটনলে গাজী মোক্তার এবং তার ভাই স্থানীয় জহিরাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান গাজী সেলিম রেজা, গাজী সম্রাট ও সোবহান সরকার সুভা (দশানী) বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে স্হানীয় বাসিন্দারা। এছাড়াও গাজী মোক্তারের ভাই গাজী সেলিম রেজা ও গাজী সম্রাট মেঘনা নদীতে দুর্ধর্ষ নৌ ডাকাত হিসেবে পরিচিত। যা চলতি বছরেই মতলব উত্তর থানা (মামলা নং ২৮/ ২৫-০৭-২০২১) ও চাঁদপুর সদর মডেল থানার (মামলা নং ২৫/ ১৬-৮-২০২০) তাদের বিরুদ্ধে নৌ ডাকাতির মামলা হয়। এছাড়াও মোহনপুর নৌ-ফাঁড়ি, গজারিয়া নৌ-ফাঁড়ি, চাঁদপুর নৌ-ফাঁড়িতে অজ্ঞাতনামা অসংখ্য নৌ ডাকাতি মামলা রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এদিকে রাজনৈতিক লেবাসে নামে-বেনামে করছে মদের কারবারসহ নানান অপকর্ম। তার বিরুদ্ধে রাজধানীর আরামবাগের ক্লাবপাড়ায় অবৈধভাবে ক্যাসিনো কারবারে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগও রয়েছে। সরকার ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান শুরু করলে গাজী মোক্তার দেশের বাইরে আত্মগোপন করে। এছাড়াও গুলশানের লেক ভিউ হোটেল প্লাজার মালিক নারায়ণগঞ্জ বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান আঙুর থেকে ভাড়া নিয়ে ব্যবসা চালালে পরবর্তীতে সাবেক কাউন্সিলর আঃ কাইয়ুম ও তাদের সহযোগিদের সহযোগিতায় হোটেল লেক ভিউ প্লাজার মালিককে ভাড়া পরিশোধ না করে, উল্টো প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে গাজী মোক্তার। এ বিষয়ে ঢাকা জেলা সিনিয়র প্রথম যুগ্ন জজ কোর্ট ভাড়াটিয়া উচ্ছেদ (মোক্তারের বিরুদ্ধে) মামলা নং ৮১৭/১৩। এ দিকে মাদক ও নাইট ক্লাবগুলো আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠর নজরদারি ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার খবর পেয়ে গাজী মুক্তার আমরিকা চলে যায়। তবে বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে লেক ভিউ প্লাজা হোটেলের ম্যানেজারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কোন তথ্য দিলে চাকরি চলে যাবে।