স্কুল নেই কিন্তু ছাত্র বিসিএস ক্যাডার

  ওয়াসিম উদ্দিন সোহাগ তাড়াইল (কিশোরগন্জ)  সোমবার | আগস্ট ৩০, ২০২১ | ০২:০০ পিএম

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় দামিহা গ্রামের যে স্কুলটির বর্তমানে কোনো অস্তিত্ব নেই, সেই স্কুলের ছাত্রই বিসিএস ক্যাডার।

জানা যায়, উপজেলার দামিহা গ্রামে ১৯৯৪ সালের দিকে দামিহা উদয়ন একাডেমি নামে একটি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু পাশ্ববর্তী রাহেলা গ্রামে কে,ডি,আর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় নামে আরেকটি স্কুল থাকায় দু গ্রামের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। শুরু হয় স্কুল নিয়ে মামলা মোকদ্দমা। প্রায় দেড় যুগের বেশি সময়  মামলা চলার পর কে,ডি,আর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়  আদালত কর্তৃক আংশিক রায় পায়।  ফলে দামিহা উদয়ন একাডেমির স্কুল কমিটি আবার আপিলের সিদ্ধান্ত নেয়।এই তিনগ্রামের দামিহা,রাহেলা,কাছিলাহাটির (কে,ডি,আর) সামাজিক সম্পর্ক নতুন করে অবনতি ঘটার আশংকায় সাবেক মন্ত্রী বর্তমান শ্রম ও কর্ম সংস্থান মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি  এডভোকেট মুজিবুল হক চুন্নু এমপির মধ্যস্থতায় এটির সুরাহা হয়। ফলে দামিহা উদয়ন একাডেমি নামক স্কুলটি বিলুপ্ত হয়ে যায়। স্কুলের পরিবর্তে গড়ে তুলেন দামিহা উদয়ন কলেজ নামে আরেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। যার প্রতিষ্ঠাতা এডভোকেট মুজিবুল হক চুন্নু এমপি নিজেই।   

তবে মামলা চলাকালীন সময়ে দামিহা উদয়ন একাডেমির শিক্ষা প্রোগ্রাম চালু ছিল। তখনকার সময়ের অনেক  ছাত্র/ছাত্রীর মধ্যে মতিউর রহমানও একজন। আজ বিদ্যালয়টি নেই। কিন্তু এলাকায় উপহার দিয়ে গেছে  মতিউর রহমানের মত এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।  দামিহা গ্রামের মো. সুরুজ মিয়ার বড় ছেলে মতিউর রহমান। তিনি ৩৫ তম বিসিএস পরীক্ষায়  (সাধারণ শিক্ষা) দর্শন বিষয়ে ১ম হয়। বর্তমানে তিনি কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপিঠ গুরুদয়াল সরকারি কলেজের দর্শন বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত আছেন। তাঁর সাথে কথা হলে নতুন প্রজন্মদের উদ্দেশ্য তিনি  বলেন, চিন্তা ও স্বপ্ন দেখার অধিকার মানুষের শ্রেষ্ঠতম সম্পদ। স্বপ্ন দেখতে হবে,চিন্তা করতে হবে,বাস্তব জ্ঞান অর্জন করতে হবে।নিজের উপর বিশ্বাস ও অদম্য ইচ্ছা শক্তিই মানুষকে সফল করে তুলতে পারে। সফলতার জন্য অর্থ প্রয়োজন হলেও অত্যাবশ্যক নয়।