ভাবমূর্তি বিনষ্টকারী সুবিধাবাদী টাউটদেরকে দল থেকে বিদায় করতে হবে : এস এম কামাল 

  জাগো প্রতিবেদক   শুক্রবার | আগস্ট ৬, ২০২১ | ১২:০০ এএম

আওয়ামী লীগের ব্যানার ব্যবহার করে দলের ভাবমূর্তি বিনষ্টকারী সুবিধাবাদী টাউটদেরকে দল থেকে বিদায় করার আহবান জানিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল বলেন, যারা দূ:সময়ে আওয়ামী লীগের কাজ করেছে তাদেরকে খুঁজে বের করে দলের দায়িত্ব দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ২০০৮ সালের পর কিছু সুবিধাভোগী লোক আওয়ামী লীগের ব্যানার ব্যবহার করে দলের ভাবমূর্তি নষ্ঠ করছে সেই সুবিধাবাদী টাউট অনুপ্রবেশকারীদেরকে ঝেটিয়ে বিদায় করতে হবে। যাদের কারণে আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি নষ্ঠ হয় সেইসব কর্মীদেরকেও দল থেকে বিদায় জানাতে হবে।

শুক্রবার সকালে খিলক্ষেত থানা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে খিলক্ষেত কর্মিটোলা উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাৎবার্ষিকী এবং করোনা মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় এস এম কামাল বলেন, এই মাস আগস্ট মাস। বাঙালি জাতির ইতিহাসে একটি কলংঙ্কদায়ক মাস, একটি কালো মাস। এই মাসে বাঙালি জাতি যা হারিয়েছে বিশ্বের কোন জাতি তা হারায়নি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আমরা হারিয়েছি। যিনি ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তানের দু:শাসনের বিরুদ্ধে এ দেশের মানুষের মুক্তির জন্য লড়েছেন, পাকিস্তানের কারাগারে জেল খেটেছেন, নির্যাতিত হয়েছেন তবুও মাথা নত করেনি। তাঁকে দুই দুই বার ফাঁসির কাস্টোরিতে নেয়া হয়েছিল। যিনি হাজার বছর ধরে বাঙালি জাতির মুক্তির স্বপ্ন দেখেছেন, যে মানুষটির জন্য দেশের মুসলমান, হিন্দুসহ সব ধর্মের লোকেরা যার যার অবস্থান থেকে প্রার্থনা করেছেন। যার নেতৃত্বে বিশ্ব দরবারে আমরা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র পেয়েছি। তিনি ছিলেন টুংঙ্গীপাড়ার শেখ মুজিব। শেখ মুজিব থেকে তিনি হয়েছেন বাঙালি জাতির বঙ্গবন্ধু। অথচ সেই মহান মানুষটিকেই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িতে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় এই আগস্ট মাসে। আমাদের জন্যে এই আগস্ট অত্যন্ত বেদনার মাস।

এস এম কামাল আরও বলেন, এই আগস্ট মাসেই আরও একটি ভয়াবহ ঘটনার জন্ম দিয়েছে কুচক্রী মহল। তারা ২০০৪ সালের ২১ আগস্টে একটি নয়, দুইটি নয় ১১টি গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছিল আমাদের নেত্রী মানবিক বিশ্বের প্রধান নেতা বিশ্বের দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে। সেদিন আমাদের আইভি রহমানসহ ২২ জন নেতাকর্মী জীবন দিয়েছিল। আবার এই মাসেরই ২০০৫ সালের ১৭ আগস্টে একযোগে ৫০০ বোমা হামলা করে বাংলাদেশের ৬৩টি জেলার মানুষকে রক্তাক্ত করেছিল। তাই বলছি এই মাস আমাদের কাছে কালো মাস। তিনি বলেন, সেই কালো মাসে দাড়িয়ে আমরা এই করোনা মহামারির মধ্যেও আমাদের প্রিয় নেত্রীর নির্দেশে সারা বাংলাদেশের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছি। আমাদের নেতাকর্মীরা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। আপনারা জানেন, যখন ২০২০ সালের ৮ মার্চ করোনায় একজন সনাক্ত হলে ৯ মার্চ আমাদের প্রিয়নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা কার্যনির্বাহী কমিটির সভা ডেকে গণভবন থেকে নির্দেশ দিলেন সারাদেশে করোনা মোকাবিলার উদ্যোগ নিতে। পাশাপাশি যার যার মতো করে মানুষের পাশে দাঁড়াবার নির্দেশ প্রদান করেন, যাতে কোন মানুষ খাবারের অভাবে মারা না যায়।

এসময় এস এম কামাল বলেন, এখনো সেই কুচক্রী মহলের অপতৎপরতা চলছে। দেশের টাকা লুটপাট করে বিদেশে বসে বিলাসী জীবন যাপন করছে তারেক জিয়া ও তার সাংঙ্গপাঙ্গরা। তারা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে, শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে অবিরাম অপপ্রচার চালাচ্ছে। এই অপপ্রচার আমাদেরকে রুখে দাঁড়াতে হবে, মানুষকে সচেতন করতে হবে। ৭৫ সালের ১৫ আগস্টে যারা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করেছিল, তারাই ২০০৪ সালে ২১ শে আগস্টে আমার আপনার নেত্রীকে হত্যা করতে চেয়েছিল। সেদিন আওয়ামী লীগে ঘাপটি মেরে থাকা পাকিস্তানের এজেন্ট খন্দকার মোস্তাক, সেনা বাহিনীতে লুকিয়ে থাকা পাকিস্তানী এজেন্ট জিয়াউর রহমান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক যড়যন্ত্রেরারীদের ক্রীড়নক হিসেবে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করছিল। ঠিক একই কায়দায় ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট জিয়ার সন্তান পাকিস্তানের নব্য এজেন্ট তারেক জিয়া একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী ও পঁচাত্তরের খুনিদের নিয়ে যড়যন্ত্র করে ২১শে আগস্টে নেত্রীকে হত্যার জন্য গ্রেনেড হামলা চালিয়েছিল। তিনি বলেন, তাই আজকে বলতে চায়- শেখ হাসিনা এসেছিলেন বলেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হয়েছে। শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে উন্নয়শীল দেশের মর্যাদায় নিয়ে গেছেন। তাই আমাদের শপথ নিতে হবে যারা অপপ্রচার করছে, এই সরকারের বিরুদ্ধে যড়যন্ত্র করছে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যড়যন্ত্র করছে তাদের থেকে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল বলেন, সেদিন যারা অপপ্রচার করেছিল আজও তারাই যড়যন্ত্রে লিপ্ত। তারা বলেছিল দেশে ২০ লক্ষ্য লোক না খেয়ে মারা যাবে। কিন্ত শেখ হাসিনার সততা, দক্ষতা, বিচক্ষণতা, সাহসিকতা, দেশপ্রেম এবং সরাসরি দেখভাল এর কারণে মহান আল্লাহর রহমতে একটি লোকও না খেয়ে মারা যায়নি। বিশ্ব নেতৃত্ব যখন করোনা মহামারিতে থমকে দাঁড়িয়েছে, উন্নত দেশের রাষ্ট্র নায়কেরা কিংকর্তব্যবিমূর, সেখানে আমার আপনার নেত্রী শেখ হাসিনা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সততার সাথে করোনা মোকাবিলা করে যাচ্ছেন। আবার দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচলও রেখেছেন। বিশ্ব মিডিয়া আমাদের নেত্রীর প্রশংসা করে বলছে,  করোনা মোকাবিলায় শেখ হাসিনা বিশ্ব নেতৃত্বকে ছাড়িয়ে গেছেন।

তিনি বলেন, যারা একদিন তলাবিহীন ঝুড়ি বলে বিদ্রুপ করতো তারাও আজ শেখ হাসনার প্রশংসা করছেন। শুধু প্রশংসা করতে জানে না বিএনপি ও তার দোসরেরা।

এসময় খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড: হাছান মাহমুদ। 

খিলক্ষেত থানা আওয়ামী লীগের সভাপতির বীর মুক্তিযাদ্ধা কেরামত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন খিলক্ষেত থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো: আসলাম উদ্দিন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য শাহাবুউদ্দিন ফরাজি, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি বজলুর রহমান বজলু, সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা-১৮ আসনের সাংসদ হাবির হাসান।