ভাঙ্গণের কবলে আলীকদমে শতবছরের উপজাতীয় পল্লী

  আলীকদম (বান্দরবান) সংবাদদাতা   বুধবার | জুলাই ২১, ২০২১ | ০৬:২৩ পিএম

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার ২ নং চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের ০৬ নং ওয়ার্ডের শত বছরের পুরাতন মংচিং হেডম্যান মার্মা পাড়া উপজাতীয় পল্লী গ্রাম টি চৈক্ষ্যং নদীর ভাঙ্গণের কবলে পড়েছে। প্রতি বর্ষায় পাহাড়ি ঢলে চৈক্ষ্যং নদীর পানির স্রোত তীব্র আকার ধারণ করে। তখন পানির ঢেউয়ে ভাঙ্গে নদীর কুল। বর্তমানে নদীর ভাঙ্গণে মংচিং হেডম্যান পাড়ার পরিধি সংকোচিত হয়ে যাচ্ছে।

সরেজমিনে জানা যায়, আলীকদম উপজেলার জনবসতি গড়ে ওঠার প্রথম দিকে চৈক্ষ্যং নদীর তীরবর্তী এলাকায় অন্ততঃ শত বছর আগে চৈক্ষ্যং খাল মাতামুহুরী নদীর মিলনস্থলে মার্মা ও বাংঙ্গালি সম্প্রদায়গণ বসতভিটা নিয়ে বসবাস শুরু করেন। সমসাময়িক ভাবে পাড়ায় জনবসতি গড়ে উঠে। তখনকার সময়ে অন্য উপজেলার সাথে যোগাযোগের জন্য একমাত্র মাধ্যম ছিল নৌ পথ। সে সুবাদে এ পাড়া টি চৈক্ষ্যং নদীর তীরে গড়ে উঠে বলে জানালেন মার্মা পাড়ার পাড়া প্রধান অংসুই প্রু কারবারী। পরে এলাকায় ধীরে ধীরে পাশ্ববর্তী এলাকায় বাঙালি জনবসতিও গড়ে উঠে। চৈক্ষ্যং নদীর নাব্যতা হ্রাসের কারণে এখন সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি বৃদ্ধি পায়। একদিকে মাতামুহুরী নদীর স্রোত অন্যদিকে চৈক্ষ্যং নদীর পানির তোড়ে তীব্র ভাঙ্গণে সংকুচিত হচ্ছে মার্মা (গ্রাম) পাড়ার  পরিধি।

চৈক্ষ্যং নদীর ভাঙ্গণের কবলে পড়ে অনেকের বসতভিটা ও আবাদী জমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বসতবাড়ি হারিয়ে অনেকে বাধ্য হয়ে চলে যান অন্যত্রে। বর্তমানে যারা আছেন তারাও বসতভিটা হারানোর ভয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন পার করছেন অনেক আদিবাসী পরিবার। অব্যাহত ভাঙণের মুখে প্রতি বছর ধ্বংস হচ্ছে নদী তীরবর্তী বসতবাড়ি ও জমি জমা। এখন নদীর পাশে থাকা পরিবার গুলো চরম হুমকিতে রয়েছে। বর্তমানে মার্মা গ্রামটিতে মোট ৫৫ পরিবারের বসববাস রয়েছে।

মংচিং হেডম্যান পাড়ার পাড়া প্রধান অংসুই প্রু কারবারী জানান, ইতোপূর্বে বান্দরবান জেলা পরিষদ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে পাড়াবাসীর পক্ষে একাধিক আবেদন করা হয়েছে। এ পর্যন্ত কোনো কিছুই জানা যায়নি। যদি নদী ভাঙ্গণ রোধ করা সম্ভব না হয় তাহলে এই বর্ষার সময় আরও কয়েকটি ঘরবাড়ি নদীর গর্ভে বিলিন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আমি পার্বত্য চট্রগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের মাননীয় মন্ত্রীর নিকট আকুল আবেদন করছি পাড়াটি রক্ষার জন্য একটি ব্লক বাঁধ নির্মাণের।

২নং চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের ০৬ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জাকের হোসেন মেম্বার বলেন, চৈক্ষ্যং নদীর প্রবল স্রোতে প্রতি বছর ভাঙ্গণের শিকার হয় নদী তীরবর্তী মার্মা গ্রাম টি।পাড়াকে রক্ষা করতে হলে বড় বাজেটের প্রয়োজন। ইউনিয়ন পরিষদের সামান্য বরাদ্দে সমস্যা সমাধান হবে না বলে জানান। তিনি আরও বলেন, মার্মা পাড়ার নদীর ঘাটে সরকারিভাবে একটি সিঁড়ি নির্মাণ করা হয়েছে, কিন্তুু প্রবল বৃষ্টির কারণে  সিড়িটির পাশে মাটির অংশ সরে গেছে, ফলে  সিড়িটি ধ্বসে পড়েছে। যদি বাঁধ বা ব্লক নির্মাণ করা না হয় মার্মা গ্রামটি ভেঙ্গে নদীর সাথে মিশে যাবে।

২নং চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান শফিউল আলম বলেন, আমার জানা মতে মংচিং হেডম্যান পাড়ার লোকজন দীর্ঘদিন ধরে এখানে বসবাস করছে। বর্ষায় নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে নদী ভাঙ্গণের কবলে পড়ে উপজাতীয় পল্লী মার্মা পাড়াটি। এর আগেও কয়েক টি বসতবাড়ী নদীতে বিলীন হয়ে গেছে,আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অনেক বার বলেছি কিন্তুু তারা সাড়াদেন নি। আমি মার্মা গ্রামটি রক্ষায় ব্লক বাঁধ নির্মাণের জন্য পার্বত্য চট্রগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিনীত অনুরোধ করছি।