নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও নিজ পরিবহনে বাড়ি ফিরেছেন শিক্ষার্থীরা: জবি উপাচার্য

  জবি সংবাদদাতা  সোমবার | জুলাই ১৯, ২০২১ | ০৩:৪৫ পিএম

নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও লকডাউনে ঢাকায় আটকে থাকা প্রায় ২ হাজার ৩'শ শিক্ষার্থীকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায়  বাড়ি পৌঁছে দিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছাতে পেরে খুশি শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘ যানজটের কারণে বাড়ি পৌঁছাতে দেরি হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তারা।

এর আগে করোনার কারণে লকডাউনে ঢাকায় আটকে থাকা শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে বাড়ি ফিরতে প্রশাসনের নিকট স্মারকলিপি জমা দেন। সার্বিক দিক বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বাড়ি পৌঁছানোর উদ্যোগ নেয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তার প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আবেদন গ্রহণ করে ও তা যাচাইবাছাই শেষে রুট ম্যাপ করে মোট ২৮টি বাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাড়ি পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়।

শনিবার প্রথম দিনে রাজশাহী, সিলেট, রংপুর এই তিনটি বিভাগের প্রায় ৯০০ শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনায় বাড়ি পৌঁছানো হয়।

রাজশাহী বিভাগের রুটে টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, নাটোর, চাপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী জেলার শিক্ষার্থীরা বাসে করে বাড়ি যান। সিলেট বিভাগের রুটে নারায়নগঞ্জ, নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ (ভৈরব), বি-বাড়ীয়া, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট, সুনামগঞ্জ এবং রংপুর বিভাগের রুটে বগুড়া, নওগাঁ, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট, সৈয়দপুর, রংপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী, দিনাজপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম জেলার শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনায় ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরেন।

সিলেট বিভাগের শিক্ষার্থীরা দিনের মধ্যেই নিজ জেলায় পৌঁছাতে পারলেও রাজশাহী বিভাগের শিক্ষার্থীদের বাড়ি ফিরতে  রাত ১০টা বেজে যায়। রংপুর বিভাগের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় তীব্র যানজট থাকায় বাড়ি ফিরতে প্রায় ২৪ ঘণ্টা সময় লাগে।

দিনাজপুর যাওয়া শিক্ষার্থী মেহেদী বলেন, যানজটের কারণে আসতে প্রায় ২৪ ঘন্টা সময় লেগেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারছি এটাই অনেক। বিশ্ববিদ্যালয় প্রসানকে ধন্যবাদ।

রাজশাহী যাওয়া শিক্ষার্থী ফারজানা বলেন, এই কঠিন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছাতে পেরেছি। প্রশাসনের এমন ব্যবস্থাপনার জন্য অনেক ধন্যবাদ।

রবিবার দ্বিতীয় দিনে ১১টি বাসে বরিশাল ও খুলনা বিভাগের ১১৯৬ জন শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনায় বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়। এদিন বরিশাল বিভাগের রুটে  বরিশাল,ঝালকাঠি,পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, ভোলা, শরীয়তপুর, মাদারীপুর জেলার শিক্ষার্থীরা এবং খুলনা বিভাগের প্রথম রুটে  মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ি, ফরিদপুর, মাগুরা, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা ও খুলনা বিভাগের দ্বিতীয় রুটে ফরিদপুর (ডাঙ্গা), নড়াইল, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা জেলার শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে বাড়ি ফিরেন।

ঝিনাইদহ যাওয়া শিক্ষার্থী মিথুন বলেন, রাস্তায় অনেক যানজট ছিল। আসতে সময়ে লেগেছে। বন্ধুদের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছাতে পেরেছি। প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে ধন্যবাদ জানাই।

সোমবার সকালে ময়মনসিংহ  ও চট্টগ্রাম বিভাগের  ৪০৫ জন শিক্ষার্থী ১১টি বাসে করে বাড়ির উদ্দেশ্যে ক্যাম্পাস থেকে বাস ছেড়ে যায়। ময়মনসিংহ রুটে গাজীপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, জামালপুর, শেরপুর, কুড়িগ্রাম (রাজিবপুর+রৌমারি)  জেলার শিক্ষার্থীরা এবং চট্রগ্রাম রুটে মুন্সিগঞ্জ (গজারিয়া), চাঁদপুর, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফেনী, খাগড়াছড়ি, চট্রগ্রাম, কক্সবাজার জেলার শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।

নোয়াখালীগামী শিক্ষার্থী রায়হান বলেন, এই প্যান্ডেমিক সিচুয়েশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে বাড়ি ফিরতে পারছি আলহামদুলিল্লাহ। আশাকরি নিরাপদে পৌঁছাতে পারবো। প্রশাসনের এমন ব্যবস্থাপনাকে সাধুবাদ জানাই।

এবিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল জাগো প্রতিদিনকে বলেন, আমরা প্রায় প্রত্যেকটি জেলায়  শিক্ষার্থীদের নিরাপদে বাড়ি পৌঁছাতে পেরেছি। এটা আমাদের অনেক বড় প্রাপ্তি।

তিনি আরও বলেন, প্রতিবন্ধকতার চেয়েও অনেক বেশি চ্যালেঞ্জ ছিল। শিক্ষার্থীদের তালিকা করে তা যাছাইবাছাই করা, রুটম্যাপ তৈরি করা। এই সময়ে বিআরটিসির বাসেরও সংকট চলছে। রুট অনুযায়ী বাসের ব্যবস্থা করতে অনেক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়েছে। 
অভিভাবক হিসেবে এই কঠিন সময়ে আমাদের শিক্ষার্থীদের নিরাপদে বাড়ি পৌঁছাতে পেরেছি এই আনন্দের কাছে এসব চ্যালেঞ্জ কিছুই না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক জাগো প্রতিদিনকে বলেন, আমরা সবসময়ই ছাত্রবান্ধব কাজ করে আসছি। শিক্ষার্থীদের নিরাপদে বাড়ি পৌঁছাতে পেরেছি, এটা শিক্ষার্থীদের জন্য অনেক বেশি কল্যাণকর সিদ্ধান্ত ছিল। নানা চ্যালেঞ্জ থাকার পরও শিক্ষার্থীরা নিজস্ব পরিবহনে বাড়ি ফিরতে পেরেছে। এই কাজের সাথে যারা জড়িত ছিলেন তারা নিরলস পরিশ্রম করে পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপদান করেছেন, তাদেরকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। শিক্ষার্থীরা নিরাপদে বাড়ি পৌঁছাতে পারছে, অভিভাবক হিসেবে আমরা আনন্দিত।