বঙ্গবন্ধুর হত্যা মানেই বাংলাদেশের হত্যা : এস এম কামাল

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসের কাছে আগস্ট সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শুধু বাঙলির ইতিহাসে নয়, বিশ্বের ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনকময় অধ্যায়। পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড এবং জঘন্যতম হত্যাজজ্ঞের ঘটনা ঘটেছিল এই দিনে। 

সেদিন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব, তার সারা জীবনের অনুপ্রেরণা, সাহস ও শক্তি মহীয়সী নারী বেগম মুজিব ও বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যদেরসহ ১৮ জনকে হত্যা করা হয়, যা বাংলাদেশসহ বিশ্ব বিবেককে নাড়া দিয়েছিল।

কেন হত্যা করা হলো বঙ্গবন্ধুকে ? এমন প্রশ্নে এস এম কামাল হোসেন বলেন, বাঙালির হাজার বছরের স্বপ্নছিল বিশ্বের মানচিত্রে একটি স্বাধীন ভূখন্ডের। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য এই জনপদের ইতিহাসে লড়াই করেছেন ক্ষুদিরাম, তিতুমীর, সূর্যসেন, প্রিতীলতা, হাজী শরীয়াতুল্লাহ, নেতাজি সুবাস বোস, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। কিন্ত সেই স্বপ্ন তারা বাস্তবায়ন করতে পারেন নাই।বাঙালির হাজার বছরের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছেন টুঙ্গীপাড়ায় জন্ম গ্রহনকারী তাঁর বাবা মায়ের আদরের খোকা শেখ মুজিব। তিনি শেখ মুজিব থেকে হয়েছেন বঙ্গবন্ধু আর বঙ্গবন্ধু থেকে জাতির পিতা। আমাদের সেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুই বিশ্বের মানচিত্রে একটি স্বাধীন ভূখন্ডের জন্ম দিয়েছেন, যার নাম বাংলাদেশ।

এই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গঠনের। কিন্ত সেদিন যারা দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে একটি সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গঠন এবং বাংলাদেশকে শোষণ করার জন্য, বাঙালিকে শোষণ করার জন্য তারা পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকে এ যাত্রা শুরু করেছিল। তারা চেয়েছিল বাংলা ভাষাকে বাদ দিয়ে পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষ উর্দু করতে। কিন্ত বঙ্গবন্ধু বলে ছিলেন, যে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ লোক হচ্ছে বাঙালি, সে দেশের রাষ্ট্র ভাষা বাংলাই হবে। আর এরই বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিবাদ করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ গ্রেফতার হন। এরপর থেকে ৫২'র ভাষা আন্দোলন, ৫৪'র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন , ৬২'র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬'র ছয়দফা, ১৯৬৯'র গণঅভ্যুত্থান এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের যুদ্ধের ডাক বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বেই হয়েছিল। এই সকল আন্দোলন সফল করার জন্য বঙ্গবন্ধু বার বার কারাবরণ করেছেন এবং পাকিস্তানি শাসকদের হাতে প্রায় ১৪ বছর জেল খেটেছেন। বঙ্গবন্ধুকে দুই দুইবার ফাঁসির ক্যাস্টোডিতে নেয়া হয়েছিল তবুও তিনি মাথা নত করেননি। আর সেই মহান নেতা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙালি ও বাংলাদেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে ছিলেন। তিনি ছিলেন মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে অনুপ্রেরণা, শক্তি, সাহস ও সততার প্রতীক। ১৯৭১ সালে ৯ মাস রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মধ্য দিয়েই বঙ্গবন্ধু'র নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয় এবং পৃথিবীর মানচিত্রে স্থান করে নেয় বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর বঙ্গবন্ধু তার স্বপ্নের বাংলাদেশে প্রথম পা রাখলেন ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি।বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরে তার পরিবারের কাছে ছুটে যাননি, তিনি ছুটে গিয়েছিলেন ঐত্যিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশের জনগণের মাঝে, যেখানে দাঁডিয়ে তিনি স্বাধীনতাকামী বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য দিক নির্দেশনামূলক ৭ মার্চের ভাষণ দিয়েছিলেন। তিনি জনগণের বঙ্গবন্ধু ছিলেন বলেই এমন কাজটি করেছিলেন। দেশের জনগণকে কাছে পেয়ে সেখানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু আবেগাপ্লুত হয়ে অবুঝ শিশুর মতো কেঁদেছিলেন। সদ্য স্বাধীন দেশের মাটিতে দাঁডিয়ে বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি প্রথম যে ভাষণ দিয়েছিলেন, সে ভাষণে ছিল দেশ ও জাতি গঠনের দিকনির্দেশনা। কিভাবে দেশকে এগিয়ে নেয়া যায়, কিভাবে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে দাঁড় করানো যায় সেই কথা। 

সেদিনের ভাষণে তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশ রাজনৈতিকভাবে স্বাধীনতা লাভ করলেও এখনো অর্থনৈতিক মুক্তি লাভ করে নাই। তাই তো তিনি নতুন করে অর্থনৈতিক মুক্তি লাভের জন্য নতুন যুদ্ধের ঘোষণা দিলেন। বঙ্গবন্ধু সেদিন পরিস্কারভাবে বলেছিলেন, আমার এই স্বাধীনতা পরিপূর্ণ হবে না, যতক্ষণ না আমরা অর্থনৈতিকভাবে মুক্তি না পাচ্ছি। আমার এই স্বাধীনতা পরিপূর্ণ হবে না, যদি আমার জনগণ না খেয়ে থাকে, বাংলার মা বোনের পরনে কাপড় না থাকে, যদি বেকার ছেলেরা চাকুরি বা কাজ না পাই । এই বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে বঙ্গবন্ধু অর্থনৈতিক মুক্তির কর্মসূচি দিলেন।

বঙ্গবন্ধু দেশ ও দেশের জনগণকে কতটা ভালবাসতেন ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেবিট ফোর্সের স্বাক্ষাৎকারে তা পাওয়া যায়। তিনি বঙ্গবন্ধুকে প্রশ্ন করেছিলেন, যুদ্ধের সময় আপনি পাকিস্তানের লাহরী কারাগারে বন্দি। বিচারের নামে প্রহসন করে আপনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিয়েছে এবং কবর খুঁড়া হয়েছে আপনার জন্য, যখন আপনি এই সংবাদ জানলেন, তখন আপনি কার কথা প্রথম স্মরণ করে ছিলেন ? তখন বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন,  প্রথমে আমার মনে পড়েছিল দেশ ও দেশের জনগণের কথা, তারপর আমার পরিবারের কথা। তিনি আরও বলেছিলেন, আমি বাংলাদেশ এবং বাঙালিদের সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি, যে ভালবাসার কাছে আমার পরিবার ছিল তুচ্ছ বিষয়। বঙ্গবন্ধু যখন জনগণকে প্রাধান্য দিয়ে দেশ গড়ার কাজে মনোনিবেশ করলেন আর তখনই শুরু হয় যড়যন্ত্রের নীলনক্সা। বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তি, ভঙ্গুর মুসলিম লীগার এবং অতি ডানপন্থীরা মিলে যড়যন্ত্র করে মুসলিম বাংলার শ্লোগান দিলেন, কুষ্টিয়ায় ঈদের জামাতে আওয়ামী লীগের এমপিকে গুলি করে হত্যা, পাটের গুদামে আগুন, রেললাইন উপড়ে ফেলা এবং থানা লুট করা হল।এই অস্থিতিশীল পরিবেশের মধ্যেই বঙ্গবন্ধু অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে যখন দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি ঘোষণা করলেন, তখনই ওই ঘাতকের দল বঙ্গবন্ধুকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে হত্যা করে।

এসময় এস এম কামাল বলেন, আমরা মনে করি সেদিন তারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে নাই , হত্যা করেছিল বাংলাদেশকে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে। কারণ বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা এক ও অভিন্ন। সেদিন যারা জাতির পিতাকে হত্যা করেছিল তারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই হত্যা করেছিল। যাতে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক মুক্তি লাভ করতে না পারে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই যড়যন্ত্রকারীরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে। যার পরবর্তী সময়ে অবৈধপথে ক্ষমতা দখলকারী জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে বিচারপতি সায়েমের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে ক্ষমতা গ্রহণ করে বাংলাদেশকে পাকিস্তানের ধারায় ফিরিয়ে নিয়ে যায় এবং দেশের মানুষের গণতাান্ত্রিক অধিকার, ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়। জিয়া ক্ষমতা পাকাপক্ত করার জন্য রাতে ১০টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করেছিল, সেনাবাহিনীর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শতশত অফিসার ও জোয়ানদের হত্যা করেছিল, বিমান বাহিনীর ৫০০ অফিসারসহ আওয়ামী লীগের সারে ৪ লক্ষ্য নেতা কর্মীকে হত্যা করেছিল। সেই সাথে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের রাজনৈতিক প্রশ্রয় দিয়ে, বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে, বিদেশ পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। অর্থাৎ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মুল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশকে পাকিস্তানী ভাবধারায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া।

এসময় আওয়ামী সাংগঠনিক সম্পাদক আরও বলেন, ৭৫ সালের হত্যাকাণ্ডের সাথে আওয়ামী লীগের মধ্যে ঘপটি মেরে থাকা খন্দকার মোস্তাক গং এবং সেনা বাহিনীতে পাকিস্তানী এজেন্টে জিয়াউর রহমান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক যড়যন্ত্রকারীদের মূল ক্রীড়নক হিসেবে সামরিক বাহিনীর কতিপয় উচ্চ বিলাসী অফিসারদের দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল।

এস এম কামাল বলেন, যে সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছিলেন, সেই বাংলাদেশকে জিয়া, এরশাদ এবং খালেদা জিয়া ২৮ বছর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থেকে জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাসবাদের ও দুর্নীতিবাজদের দেশে পরিণত করে। তারা একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল বাংলাদেশকে।

তখন দেশে কোন গণতন্ত্র ছিল না, মানুষের ছিল না কোন গণতান্ত্রিক অধিকার, মনে হচ্ছিল আমরা কোন অন্ধকার জগতে আছি। আর সেই দু:শাসনের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশের মানুষের আকাঙ্খা অনুযায়ী সেই অন্ধকার যুগের আলোর দিশারী হিসেবে আওয়ামী লীগের হাল ধরেন এবং মুক্তিযুদ্ধের সকল স্বপক্ষের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে ১৯৯৬ সালে রাষ্টীয় ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ আবার নতুন করে মুক্তিযুদ্ধের ধারায় ফিরে আসে। সেই সাথে খাদ্য ঘাটতির বাংলাদেশ খাদ্যে স্বংয় সম্পূর্ণতা লাভ করে।

এরপর বিএনপি আবার যড়যন্ত্র করে ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশকে গণতন্ত্রবিহীন অন্ধকার জগতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। তারা একযোগে ৬৪টি জেলায় ৫৫১টি বোমা হামলা করে, বিচারপতিদের কোর্টের মধ্যেই গুলি করে হত্যা করে, ২১ হাজার আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীকে খুন করে তারা রক্তের হোলি খেলায় মেতে উঠে।

এর মধ্য দিয়ে ২০০৮ সালে আমার আপনার প্রিয় নেত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনা জনগণের ভোটে রাষ্টীয় ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশকে উন্নয়শীল ও মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসাবে বিশ্বের দরবারে প্রতিষ্ঠিত করেন এবং বঙ্গবন্ধু যা চেয়েছিলেন মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, সুচিকিৎসা সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে শেখ হাসিনা আজকে গ্রামকে শহরে রূপান্তর করছেন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য শেখ হাসিনা দিনরাত নিরলস পরিশ্রম করে , মানুষকে ভালবেসে, দেশপ্রেমে উদ্বধ হয়ে দেশের জন্য,গণতন্ত্রের জন্য, মানব কল্যাণের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। আর তারই ধারাবাহিকতায় গ্রামের মানুষ শহরের সুবিধা ভোগ করছে। প্রতিটি গ্রামের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎসহ ১৮ হাজার স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র স্থাপন করেছেন। সব মিলিয়ে বাংলাদেশকে একটি উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিশ্বের দরবারে পরিচিতি লাভ করিয়েছেন।

এস এম কামাল আরও বলেন, যারা একদিন বঙ্গবন্ধুর সরকারকে বিদ্রুপ করেছিল, যারা কৃত্রিম খাদ্য সংকট সৃষ্টি করে বংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়িঁর দেশ বলে আখ্যা দিয়েছিলন, সেই দেশের রাষ্ট্রদূত ২০১৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ে ধান গবেষণার একটি সেমিনারে বলেছিলেন আজকের বাংলাদেশ আর তলাবিহীন ঝুড়ির দেশ নয়। আজকের বাংলাদেশ খাদ্যে স্বংয় সম্পূর্ণের বাংলাদেশ। আর ২০২১ সালের ১০ জানুয়ারি আমেরিকার একজন সাংবাদিক তার প্রবন্ধে প্রেসিডেন্টকে উদ্দেশ্যে করে বলেছিলেন, কিভাবে দারিদ্র বিমোচন করতে হয় তা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যে বাণী দিয়েছেন, সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির এক উজ্জল দৃষ্টান্ত। আজকে বাংলাদেশ যে, এগিয়ে যাচ্ছে তা বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরেই।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, জাতির জনককে হত্যা করার পর আমরা কোনদিন ভাবতে পারেনি যে, এই দেশে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হবে। কিন্ত শেখ হাসিনা দেশে এসেছিলেন বলেই আমরা বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার এবং যুদ্ধোপরাধীদের বিচার করতে পেরেছি। শেখ হাসিনা দেশে না এলে এদেশের মানুষ তার গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেত না, বাংলাদেশর মানুষ সেই অন্ধকার যুগেই পড়ে থকতো। সুতরাং আমরা বলতে পারি আজকের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা হচ্ছেন আমাদের জন্য আশির্বাদ। তিনি তার বাবার আদর্শ বুকে ধারণ করে বাংলাদেশের মানুষকে ভালবেসে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ নিয়ে বঙ্গবন্ধু যে স্বপ্ন দেখতেন সেই লক্ষ্যে আমার আপনার সবার প্রিয় জননেত্রী আজকের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এই করোনা মহামারিতে বিশ্ব নেতৃত্ব যখন হিমশিম খাচ্ছে সেখানে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিলেন দেশের মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং সাহায্য সহযোগিতা করার জন্য। বঙ্গবন্ধুর মতো মানুষকে ভালবেসে করোনার গণটিকার ব্যবস্থা করলেন। তাই তো আজ বিশ্বনেতৃত্ব বলেছেন শেখ হাসিনা হচ্ছে মানবিক বিশ্বের প্রধানমন্ত্রী। আজ বিশ্বনেতৃত্বে শেখ হাসিনার অবস্থান দ্বিতীয়।

সুতরাং এই আগস্ট মাসে আমাদের শপথ হবে অসম্প্রদায়িক চিন্তা চেতনার শেখ হাসিনার হাতকে আরও শক্তিশালী করা এবং বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারাকে সচল রেখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করা।

শোকাবহ ১৫ আগস্ট
১৫ আগস্ট বাঙালি জাতির জীবনে অত্যন্ত বেদনার। এদিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবসহ পরিবার-পরিজন ও নিকটজনদের নৃশংস ও বর্বরতার সঙ্গে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। যে জাতির জন্য জাতির পিতা প্রাণ উৎসর্গ করতে দ্বিধা করেননি, যিনি দেশকে এগিয়ে নিতে সর্বদা সচেষ্ট ছিলেন, যার সুযোগ্য নেতৃত্বে আমরা একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছিলাম, তারা সেদিন বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবার-পরিজনকে হত্যা করে দেশের ইতিহাসকে কলুষিত করেছে। দেশের অগ্রযাত্রাকে পেছনের দিকে ঠেলে দিয়েছে। ঘাতকেরা বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারকে পৈশাচিকভাবে হত্যা করে বাঙালি জাতির অগ্রগতি, প্রগতি ও উন্নয়নকে স্তব্ধ করে দিতে চেয়েছিল। অথচ এদেশের মানুষের মানবিক ও আর্থিক উন্নয়নের জন্য সমগ্র জীবনকে তিনি ত্যাগ-তিতিক্ষার মাধ্যমে বলিষ্ঠভাবে কাজ করে গেছেন। এদেশের মৃত্তিকায় মিশে আছে বাঙালির জন্য তাঁর অন্তহীন ভালবাসা, মমত্ববোধ এবং উন্নয়নের উদগ্র বাসনা। দীর্ঘদিন পরে হলেও বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডের বিচার হয়েছে। যারা বিদেশে রয়ে গেছে তাদের এখনও প্রাপ্য শাস্তি কার্যকর করা যায়নি। পৃথিবীর ইতিহাসে এটি একটি নিকৃষ্টতম হত্যাকান্ড। বঙ্গমাতা ছিলেন বঙ্গবন্ধুর সকল প্রেরণার উৎস। ঘাতকেরা তাকেও হত্যা করেছে। মোশতাক-জিয়া-চাষীর নেতৃত্বে বিপথগামী সেনাদের তারা যেভাবে পরিচালনা করে কার্যোদ্ধার করেছিল তাতে দেশ ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তে বাংলার স্বাধীনতাকে বিনষ্ট করতে চেয়েছিল। যারা এ হত্যাকান্ডে জড়িত ছিল তারা দেশ ও সমাজের শত্রু। অচিন্তনীয়ভাবে এ হত্যাকান্ড বিশ্ব বিবেককে তাড়িত করেছিল। 

পাকিস্তানীরা যে বিশ্বাসঘাতকতা করেও সামাল দিতে না পারার ভয়ে দুঃসাহস দেখায়নি তাদেরই প্রেতাত্মা যারা বাঙালি নামধারী তারা এ নির্মম ও পৈশাচিক হত্যাকান্ড ঘটায়। এতে সাময়িকভাবে হয়ত তারা ক্ষমতা দখল করেছিল, কিন্তু জনগণের ঘৃণা এবং একটি অস্থিতিশীল রাজনৈতিক সঙ্কট সব সময় তাদের ওপর বিরাজ করেছিল। বঙ্গবন্ধু বাংলার বন্ধু হিসেবে, এদেশের মানুষের ত্রাণকর্তা হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করেছিলেন, যাঁর নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়েছিল, তাঁকে মাত্র সাড়ে তিন বছর শাসনকালের মধ্যে নির্মমভাবে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছিল ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট।

এই দুষ্টচক্র যে অপূরণীয় ক্ষতি সাধন করেছে তা পূরণ করা পরবর্তী একুশটি বছর সম্ভব হয়নি। এটা বাঙালি জাতির জন্য চিরলজ্জার ও ধিক্কারজনক। তাঁর হত্যাকান্ডের পর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছিল। গণতন্ত্র ধ্বংস করে সংবিধানের মূল আদর্শকে ভূলুণ্ঠিত করা হয়েছিল। অসাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মনিরপেক্ষতা বিনষ্ট করার চেষ্টা করা হয় এবং মানবাধিকারের সকল প্রয়াস লুপ্ত করা হয়। ইনডেমনিটি বিলের মাধ্যমে এই ঘৃণ্য হত্যাকান্ডের বিচারকার্য রহিত করা হয়েছিল। এদিকে যারা ক্যু করেছিল তারা স্বৈরতন্ত্র, সাম্প্রদায়িকতা, স্বাধীনতা বিরোধিতার উপাদানসমূহকে উৎসাহিত করেছিল। শোকাবহ আগস্ট জাতির জনককে হারানোর এক বিয়োগান্তক ঘটনা। শোকাবহ আগস্টের পথ ধরেই নভেম্বরে জাতীয় চার নেতা- সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন (অব) মনসুর আলী এবং এএইচএম কামারুজ্জামানকে হত্যা করা হয় কারাগারে। এই খুনি চক্রকে ধিক্কার।