ইসলামি আইন বা শরিআহ্ বলতে কি বুঝায়

ইসলামি আইনকে বলা হয় শরিআহ্। শরিআহ্ শব্দটি আরবি। এর আবিধানিক অর্থ হচ্ছে এমন পথ বা রাস্তা যেগুলো জলাশয়ের দিকে ধাবিত হয়েছে। মহানবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময়ে অধিকাংশ আরববাসীর বসবাস ছিল মরুভূমিতে। মরুজীবনযাপন দ্বারা তারা ছিল ব্যাপকভাবে প্রভাবিত। সেকারণেই এই জলময় স্থানের নির্দেশনা ছিল তাদের জীবনধারণের জন্য আবশ্যক। 

এই শরিআহ্ শব্দটি আমাদের দেশে শরিয়ত হিসাবে পরিচিত।

মূলত শরিআহ্ হলো এক ধরনের জীবনপদ্ধতি, যা মানুষের জীবনকে সঠিক পথে পরিচালিত করে। আর এই সঠিক পথের ধারণা থেকেই আইনের উদ্ভব। তাই বলা যায়, শরিআহ্'র হলো ধর্মীয় আইন যা ইসলামি ঐতিহ্যের একটি অনুষঙ্গ।

ইসলামি পরিভাষা অনুযায়ী, সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ এবং নবি মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেসব আদেশ-নিষেধ, নিয়ম-নীতি ও পথনির্দেশনা মুসলমানদের জন্য প্রদান করেছেন, তার সমষ্টিই হচ্ছে শরিআহ্ বা শরিয়ত। 

এই শরিআহ্ শব্দটি 'দ্বীন' শব্দের সাথে সম্বন্ধযুক্ত। 'দ্বীন' এর মানে হলো আত্মসমর্পণ বা শরিআহ্'র অনুসরণ। এ হিসেবে বলা যায়, শরিআহ্ হলো আল্লাহর রাসূল (সা.) এর দেখানো পথ আর দ্বীন হলো সেই পথ অনুসরণ করা বা সেই পথে চলা।
শরিআহ্ শব্দটি মূলত ইসলাম ধর্মের নিয়ম-কানুন হতে উৎসরিত। প্রধানত কুরআন ও হাদিস হতে, যা ইসলামের দৃষ্টিতে যথাক্রমে মহান আল্লাহ ও মুহাম্মাদ (সা.) এর দিকনির্দেশনার উৎস। মূলত মহান স্রষ্টার অমোঘ স্বর্গীয় আইন বুঝাতেই আরবিতে শরিআহ্ শব্দটি ব্যবহৃত হয়।

শরিআহ্ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, অতঃপর আমি আপনাকে (মুহাম্মাদকে) কর্মপদ্ধতির ওপর (শরিআহ্'র ওপর) প্রতিষ্ঠিত করেছি। সুতরাং আপনি তা-ই অনুসরণ করুন; আর আপনি মূর্খদের খেয়ালখুশির অনুসরণ করবেন না।' [সুরাতুল জাসিয়া:

আরও ব্যাপক অর্থে শরিআহ্কে ব্যাখ্যা করে বলা যায়, শরিআহ্ হলো কতগুলো আইন-কানুন, শিক্ষা ও মূল্যবোধের সমষ্টির নাম, যা মুসলমানদের জীবন পথের দিশা হিসেবে বিবেচিত। এই আইন-কানুন, শিক্ষা ও মূল্যবোধ মানুষের জীবনের সকল দিককে প্রভাবিত করে। এর মধ্যে ইবাদত, মূল্যবোধ, ব্যক্তিগত আচার-আচরণ, রাজনীতি, সমাজনীতি, অর্থনীতি, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা ও জীবনঘনিষ্ঠ অন্যান্য বিষয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত। সে কারণেই শরিআহ্'র নীতিমালা ফিকাহ্'র চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এতে রয়েছে ঈমানের পরিচয়, ঈমানভিত্তিক পথচলার নির্দেশিকা এবং ইনসাফ পূর্ণ জীবনযাপনের নীতিমালা। অন্যভাবে বলা যায়, শরিআহ্ হলো, একটি পরিপূর্ণ জীবনবিধান।

লেখক: আবু তাহমিদ