প্রকৃতপক্ষে সুন্নী মুসলিম কারা

আমাদের মুসলিম সমাজে সুন্নী শব্দের ব্যাপক প্রচলন রয়েছে। চাকরি-বাকরিসহ বিভিন্ন কাজে নিজেদের পরিচয় লিখতে গেলে আমরা মুসলিম ক্যাটাগরিতে সুন্নী শব্দটি লিখে থাকি আবার কেউ কেউ শিয়াও লিখেন। তাই আমাদেরকে এই সুন্নী মুসলিম ও শিয়া সম্প্রদায় সম্পর্কে জানা উচিত। তবে আমাদের এই বাংলাদেশে সুন্নী আকিদায় বিশ্বাসী মুসলমানদের সংখ্যাই বেশি। সে কারণে এই সুন্নী মুসলমানদের পরিচয়, মতাদর্শ ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানা খুবই জরুরি। 
ইসলামি পন্ডিতদের মতে সুন্নী মুসলিম বলতে বুঝায় আহলুস সুন্নাতে ওয়াল জামাআত। এখানে দু'টি শব্দের সমন্বয় রয়েছে। এর একটি হলো সুন্নাহ আর অপরটি হলো জামাআত। এ দু'টি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত আহলুস সুন্নাতে ওয়াল জামাআত। এখানে সুন্নাহ বলতে বুঝানো হয়েছে আমাদের মহানবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মত ও পথ। আর জামাআত শব্দ দিয়ে মহানবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবাগণের জামাআত বা দলকে বুঝানো হয়েছে। সে হিসেবে বলা যায়, যারা মহানবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মত ও পথ এবং তাঁর সাহাবাগণের অনুসৃত নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত আছেন, কেবল তারাই আহলুস সুন্নাতে ওয়াল জামাআত এর প্রকৃত অনুসারী, যারা সুন্নী নামে পরিচিত। 

প্রকৃতপক্ষে কে সুন্নী মুসলিম আর কে এই সুন্নী জামাআতের অনুসারী নয়, তা জানাও আমাদের জন্যে জরুরি। এ প্রসংগে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন, যাদের মধ্যে নিম্নলিখিত গুণাবলি পাওয়া যাবে কেবল তাদেরকেই আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআত বা সুন্নী জামাআতের অন্তর্ভুক্ত বলে মনে করা হবে।
তাঁর ভাষ্যমতে সে গুণাবলিগুলো হলো- ১. শাইখাইন তথা হযরত আবু বকর (রা.) ও হযরত ওমর (রা.) কে সাহাবাগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলে স্বীকার করা। ২. রাসূল (সা.) এর দুই জামাতা তথা হযরত উসমান (রা.) ও হযরত আলী (রা.) কে সম্মান প্রদর্শন করা। ৩. উভয় কিবলা তথা পবিত্র কাবা ও বায়তুল মোকাদ্দাসের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা। ৪. মুত্তাকি ও নাফরমান (পাপী) উভয় ব্যক্তির জানাযা পড়া। ৫. নেককার ও ফাসিক (পাপী)  উভয় ইমামের পেছনে নামাজ আদায় করা। ৬. যালিম ও ন্যায়পরায়ণ রাষ্ট্রপ্রধান ( রাষ্ট্রপতি-বাদশা'র) বিরুদ্ধাচারণ না করা। ৭. চামড়া'র মুজার ওপর মাসেহ করাকে জায়েজ মনে করা। ৮. তাকদীরের ভালো-মন্দের ওপর বিশ্বাস রাখা। ৯. সকল নবী ও সাহাবায়ে কেরাম ব্যতিত অন্য কারও সম্পর্কে জান্নাত ও জাহান্নামের সাক্ষ্য প্রদান না করা। ১০. উভয় ফরজ তথা নামাজ ও যাকাত আদায় করা। ১১. কোন সাহাবাকে তুচ্ছ মনে না করা বা তাঁদের কারও সমালোচনা না করা। ১২. নিজের ঈমান সম্পর্কে দৃঢ় থাকা ও সন্দেহ পোষণ না করা। ১৩. আল্লাহর দ্বীন তথা ইসলাম ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি না করা। ১৪. তাওহীদ তথা একত্ববাদে বিশ্বাসী কাউকে গুনাহের কারণে কাফির বা অবিশ্বাসী ফতোয়া না দেওয়া।

এছাড়াও আল্লাহর দীদার বা দর্শন ও কবরের আজাবে বিশ্বাস করাও আহলুস সুন্নাতে ওয়াল জামাআতের অন্তর্ভুক্তির নিদর্শন। মূলত এগুলো হলো আহলুস সুন্নাতে ওয়াল জামাআতের প্রধান প্রধান নিদর্শন। আমাদেরকে সুন্নী মুসলিম হিসেবে পরিচয় দিতে হলে অবশ্যই উপরোল্লিখিত বিষয়ে বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে এবং সে অনুযায়ী আমল বা কাজ করতে হবে। তা না হলে আমরা প্রকৃত সুন্নী বলে দাবি করতে পারবো না।