ডেমরায় সড়কের পাশে আবর্জনার ভাগাড়, দুর্গন্ধে জনদুর্ভোগ 

ডেমরার নবগঠিত ঢাকা দক্ষিন সিটি কপোরেশনের ৬৪ নং ওয়ার্ডের গোলাম মোস্তফা কলেজের প্রধান সড়কের পাশে আবর্জনার স্তুপ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। পথচারী ও গনপরিবহন চলাচলকারী সড়কটি যেন আবর্জনা ফেলার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এতে পরিবেশ দূষিত হওয়ার পাশাপাশি আবর্জনার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে পথচারীসহ এলাকার মানুষ। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে ডেমরার কিছু ওয়ার্ড দক্ষিন সিটির অন্তভুক্ত হয়।সিটিতে রুপান্তরের পর থেকে হাজারো নাগরিক সমস্যার মধ্যে বর্তমানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যাটি প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে।অঞ্চল ৯ এর ৬৪ ওয়ার্ড এলাকায় দৈনিক প্রায় ২০ মেট্রিক টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। কিন্ত এই বর্জ্য ফেলার জন্য এ এলাকায় নির্ধারিত জায়গা ও ডাস্টবিনের অভাব রয়েছে। ফলে যত্রতত্রভাবে ফেলা হচ্ছে এ এলাকার ময়লা-আবর্জনা। এই ময়লা-আবর্জনার বড় অংশটি ফেলার জন্য গোলাম মোস্তফা কলেজের সড়কের পাশ বেছে নিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।সড়কের পাশে তো ফেলা হচ্ছেই। কোথাও আবার সড়কের পিচের উপর পর্যন্ত আবর্জনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। দিন যত যাচ্ছে সড়কের পাশে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ ততই বড় হচ্ছে।এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। 


এদিকে সড়কের পাশে গড়ে উঠা ময়লার ভাগাড়ের কারণে পথচারীদের নাকে রুমাল দিয়ে চলাচল করতে হয়। এ সময় পথচারীদের নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে উৎকট গন্ধে। এতে ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে এলাকার পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য। এছাড়া সড়কের পাশে আগুন লাগিয়ে আবর্জনা পুড়িয়ে ফেলায় মরার উপক্রম হয়েছে সড়কের পাশের গাছগুলোর। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এসব ময়লা-আবর্জনার অধিকাংশই পচনশীল পদার্থ। কাঁচা বাজারের শাকসবজি, হোটেলের বাসি-পচা খাবার এবং বাসাবাড়ির ময়লার প্রায় ৮০ শতাংশ পচনশীল। ফলে এগুলো ফেলার অল্প সময়ের মধ্যেই পচে গিয়ে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়। 

অন্যদিকে পলিথিন নিষিদ্ধ হলেও ময়লার ভাগাড় পলিথিনে সয়লাব। পচনশীল পদার্থ নষ্ট হয়ে গেলেও পলিথিনগুলো থেকে যাচ্ছে অক্ষত। এসব পলিথিন বৃষ্টির পানিতে ভেসে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে। এলাকা বাসী ও দোকানিদের অভিযোগ বর্জ্য নেওয়ার কর্মীরা ঠিকমতো ময়লা বাসাবাড়ি ও দোকান পাট থেকে নেয় না।তিন চার দিন পর পর ময়লা নেয়াসহ অতিরিক্ত ময়লার বিল নিধারনের নানান অভিযোগ তুলে ধরেন। 

স্থানীয় কলেজ ছাত্র নাজমুল হাসান বলেন,শহরের রাস্তার পাশে যত্রতত্র ময়লা স্তুপ জমার কারণে বেড়েছে কুকুরের উপদ্রব।জমে থাকা স্তুপের কারণে নাখ মুখ বন্ধ করে হাটতে গিয়ে কুকুরের কামড়ের শিকার হচ্ছেন পথচারীরা।ময়লা ফেলার জন্য ডাম্পিং এর ব্যবস্থা নেই। কোনাপাড়ার বাসিন্দা সানোয়ার হোসেন বলেন,এই স্থান দিয়ে পার হচ্ছেন আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা৷ আর ভ্যান থেকে ময়লা-আবর্জনা সড়কে নামিয়ে তা ঘেঁটে বিভিন্ন ভাঙাচোরা জিনিসপত্র সংগ্রহ করছেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। আবর্জনার পানি গড়িয়ে পড়ছে পয়োনিষ্কাশনের ড্রেনে। পরে আবার আবর্জনা তুলে রাখা হচ্ছে দুটি কনটেইনারে৷ তবে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ঘাঁটাঘাঁটির কারণেই ময়লার দুর্গন্ধ কয়েক গুণ বেশি ছড়িয়ে পড়ছে।এই স্থান থেকে দ্রুত অন্য স্থানে সরানোর জোর দাবি জানাই। 

স্টাফ কোয়াটার টু কোনাপাড়া এ সড়কে চলাচলকারী পরিবহন চালক সোহরাব হোসেন বলেন,এ সড়ক দিয়ে যাত্রীদের নিয়ে গেলে দুর্গন্ধে বাসযাত্রীদের দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ফয়সাল সরকার বলেন,সড়কের পাশে স্তূপ করে রাখা আবর্জনা গন্ধে চলাচল করতে কষ্ট হয়। নাক-মুখ চেপে শ্বাস বন্ধ করে এই সড়কে হাঁটতে হয়। আমরা এ দুর্গন্ধ থেকে পরিত্রাণ পেতে চাই। রাস্তার পাশে খোলা জায়গায় এভাবে ময়লা-আবর্জনা ফেলা পরিবেশ সংরক্ষণ আইনবিরোধী কাজ।এলাকাবাসীর সুযোগ-সুবিধা এবং স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তোলার সব কাজ করা উচিত। 

এ ওয়ার্ডে ময়লার টেন্ডার নেওয়া প্রতিষ্ঠান লাবিবা এন্টারপ্রাইজের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে বন্ধ পাওয়া যায়। মানুষের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে ডিএসসিসির ৬৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিল বাবুল মোল্লা বলেন,কয়েকদিন ধরে এই স্থানেই বাসাবাড়ির ময়লা রাখা হচ্ছে এবং রাতে তা সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। তবে তা সরিয়ে নেওয়ার জন্য জায়গা খোঁজা হচ্ছে।স্থানটি ঠিক হয়ে গেলে আর সড়কের পাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হবে না।